দারসুল কোরআন

1

দারসুল কোরআন

সুরা নূর

২৭-২৭ নং আয়াত

মোট আয়াত সংখ্যাঃ ৬৪

মোট রুকুর সংখ্যাঃ ০৯

পারা নংঃ১৮

কত মঞ্জিলেঃ ৪র্থ

তারতিব বিন নুযুলঃ ওহীর ধারাবাহিকতায়ঃ

১০২ তম সুরা,এর আগে সুরা হাশর পরে সুরা হাজ্জ।

তারতিব ফিল মুসাহাফঃ কোরআন বিন্যাসের ধারায়

২৪ তম সুরা এর আগে সুরা মুমেনুন পরে সুরা ফুরকান

সহীহ তেলোয়াত


﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّىٰ تَسْتَأْنِسُوا وَتُسَلِّمُوا عَلَىٰ أَهْلِهَا ۚ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ﴾


সরল অনুবাদঃ

হে ঈমানদাগণ ! নিজেদের গৃহ ছাড়া অন্যের গৃহে প্রবেশ করো না যতক্ষণ না গৃহবাসীদের সম্মতি লাভ করো এবং তাদেরকে সালাম করো ৷ এটিই তোমাদের জন্য ভালো পদ্ধতি, আশা করা যায় তোমরা এদিকে নজর রাখবে ৷

নামকরণ

ঃ ৫ম রুকুর প্রথম্ অর্থাৎ ৩৫ নং আয়াতের শুরুতেই

﴿اللَّهُ نُورُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْض

এর নূর শব্দ থেকে নামটি গৃহীত হয়েছে। নুর মানে আলো,আল্লাহ তায়ালা নিজেকে বিশ্ব জগতের আলো হিসাবে এই আয়াতে চমৎকার ব্যাক্ষা দিয়েছেন।

নাযিলের সময়-কাল

এক কথায় এ সূরাটি বনী মুসতালিক যুদ্ধের সময় মদিনায় নাযিল হয়, এ বিষয়ে সবাই একমত । কুরআনের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, হযরত আয়েশার (রা) বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের ঘটনা প্রসংগে এটি নাযিল হয় । (দ্বিতীয় ও তৃতীয় রুকুতে এ ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে । আর সমস্ত নির্ভরযোগ্য বর্ণনা অনুযায়ী বনীল মুসতালিক যুদ্ধের সফরের মধ্যে এ ঘটনাটি ঘটে ।কিন্তু এ যুদ্ধটি ৫ 2 হিজরী সনে আহযাব যুদ্ধের আগে না ৬ হিজরীতে আহযাব যুদ্ধের পরে সংঘটিত হয় সে ব্যাপারে মতবিরোধ দেখা যায়, ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেন, আহযাব যুদ্ধ ৫ হিজরীর শওয়াল মাসের ঘটনা এবং বনীল মুসতালিকের যুদ্ধ হয় ৬ হিজরীর শাবান মাসে । এ প্রসংগে হযরত আয়েশা (রা) ও অন্যান্য লোকদের থেকে যে অসংখ্য নির্ভরযোগ্য হাদীস বর্ণিত হয়েছে সেগুলো এর সমর্থন করে । সেগুলো থেকে জানা যায়, মিথ্যা অপবাদের ঘটনার পূর্বে হিজাব বা পরদার বিধান নাযিল হয় আর এ বিধান পাওয়ার যায় সূরা আহযাবে । এ থেকে জানা যায়, সে সময় হযরত যয়নবের (রা) সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিয়ে হয়ে গিয়েছিল এবং এ বিয়ে ৫ হিজরীর যিলকদ মাসের ঘটনা । সূরা আহযাবে এ ঘটনারও উল্লেখ পাওয়া যায় । এ ছাড়া এ হাদীসগুলো থেকে একথাও জানা যায় যে, হযরত যয়নবের (রা) বোন হামনা বিনতে জাহশ হযরত আয়েশার (রা) বিরুদ্ধে অপবাদ ছড়ানোয় শুধুমাত্র এ জন্য অংশ নিয়েছিলেন যে, হযরত আয়েশা তাঁর বোনের সতিন ছিলেন । আর একথা সুস্পষ্ট যে, বোনের সতিনে বিরুদ্ধে এ ধরনের মনোভাব সৃষ্টি হবার জন্য সতিনী সম্পর্ক শুরু হবার পর কিছুকাল অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হয়। এসব সাক্ষ ইবনে ইসহাকের বর্ণনাকে শক্তিশালী করে দেয় ।

ঐতিহাসিক পটভূমি

বদর যুদ্ধে জয়লাভ করার পর আরবে ইসলামী আন্দোলনের যে উত্থান শুরু হয় খন্দকের যুদ্ধ পর্যন্ত পৌঁছুতে পৌঁছুতেই তা এত বেশী ব্যাপকতা লাভ করে যার ফলে মুশরিক, ইহুদী, মুনাফিক ও দোমনা সংশয়ী নির্বিশেষে সবাই একথা অনুভব করতে থাকে যে, এ নব উত্থিত শক্তিটিকে শুধুমাত্র অস্ত্র ও সমর শস্তির মাধ্যমে পরাস্ত করা যেতে পারে না । খন্দকের যুদ্ধে তারা এক জোট হয়ে দশ হাজার সেনা নিয়ে মদীনা আক্রমণ করেছিল । কিন্তু মদীনা উপকণ্ঠে এক মাস ধরে মাথা কুটবার পর শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ মনোরথ হয়ে চলে যায় তাদের ফিরে যাওয়ার সাথে সাথেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করে দেনঃ“এ বছরের পর কুরাইশরা আর তোমাদের ওপর হামলা করবে না বরং তোমরা তাদের ওপর হামলা করবে। রসূল (সা)-এর এ উক্তি দ্বারা প্রকারান্তরে একথাই জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, ইসলাম বিরোধী শক্তির অগ্রগতির ক্ষমতা নিশেষ হয়ে গেছে,এবার থেকে ইসলাম আর আত্মরক্ষার নয় বরং অগ্রগতির লড়াই লড়বে এবং কুফরকে অগ্রগতির পরিবর্তে আত্মরক্ষার লড়াই লড়তে হবে।

প্রধান ঘটনা ও প্রেক্ষাপট

• মিথ্যা অপবাদ (ইফকের ঘটনা): বনু মুসতালিক যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে হযরত আয়েশা (রা.) হারিয়ে যাওয়া হার খুঁজতে গিয়ে কাফেলা থেকে পেছনে পড়ে যান। পরবর্তীতে এক সাহাবির সাথে তিনি মদিনায় পৌঁছালে মুনাফিক ও কিছু লোক তাঁর বিরুদ্ধে কুৎসা রটায়। • হযরত আয়েশার পবিত্রতা ঘোষণা: সুরাটির মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা হযরত আয়েশা (রা.)-এর সম্পূর্ণ পবিত্রতা ঘোষণা করেন এবং অপবাদকারীদের মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেন। •

কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তুঃ

• মুনাফিকরা মুসলমানদেরকে এমন এক ময়দানে পরাজিত করতে চাচ্ছিল যেটা ছিল তাদের প্রাধান্যের আসল ক্ষেত্র । আল্লাহ তাদের চরিত্রে হননমূলক অপবাদ রটনার অভিযানের বিরুদ্ধে একটি ক্রুদ্ধ ভাষণ দেবার বা মুসলমানদেরকে পাল্টা আক্রমণে উদ্বুদ্ধ করার পরিবর্তে মুসলমানদেরকে এ শিক্ষা দেবার প্রতি তাঁর সার্বিক দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন যে, তোমাদের নৈতিক অংগনে যেখানে যেখানে শূন্যতা রয়েছে সেগুলো পূর্ণ কর এবং এ অংগনকে আরো বেশী শক্তিশালী করো । একটু আগেই দেখা গেছে যয়নবের (রা) বিয়ের সময় মুনাফিক ও কাফেররা কী হাংগামাটাই না সৃষ্টি করেছিল । অথচ সূরা আহযাব বের করে পড়লে দেখা যাবে সেখানে ঠিক সে হাংগামার যুগেই সামাজিক সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত নির্দেশগুলো দেয়া হয়ঃ • একঃ নবী করীমের (সা) পবিত্র স্ত্রীগণকে হুকুম দেয়া হয়ঃ নিজেদের গৃহমধ্যে মর্যাদা সহকারে বসে থাকো, সাজসজ্জা করে বাইরে বের হয়ো না এবং ভিন পুরুষদের সাথে কথা বলার প্রয়োজন হলে বিনম্র স্বরে কথা বলো না, যাতে কোন ব্যক্তি কোন অবাঞ্ছিত আশা পোষণ না করে বসে । ( ৩২ ও ৩৩ আয়াত) • দুইঃ নবী করীমের (সা) গৃহে ভিন পুরুষদের বিনা অনুমতিতে প্রবেশ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং নির্দেশ দেয়া হয় 3

ব্যাক্ষাঃ

﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ

হে ঈমানদাগণ ! নিজেদের গৃহ ছাড়া অন্যের গৃহে প্রবেশ করো না যতক্ষণ না গৃহবাসীদের সম্মতি লাভ করো। আয়াতের এই অংশের মর্মার্থ অনুধাবনের জন্য দুটি বিষয় ভালোভাবে অনুধাবন প্রয়োজন। একঃ অপবাদের ঘটনার পরপরই এ বিধান বর্ণনা করা পরিষ্কারভাবে একথাই ব্যক্ত করে যে, রসূলের স্ত্রীর ন্যায় মহান ও উন্নত ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে এত বড় একটি ডাহা মিথ্যা অপবাদের এভাবে সমাজের অভ্যন্তরে ব্যাপক প্রচারলাভকে আল্লাহ আসলে একটি যৌন কামনাতাড়িত পরিবেশের উপস্থিতির ফল বলে চিহ্নিত করেছেন। আল্লাহর দৃষ্টিতে এ যৌন কামনা তাড়িত পরিবেশের বদলানর একমাত্র উপায় এটাই ছিল যে, লোকদের পরস্পরের গৃহে নিসংকোচে আসা যাওয়া বন্ধ করতে হবে, অপরিচিত নারী-পুরুষদের পরস্পর দেখা-সাক্ষাত ও স্বাধীনভাবে মেলামেশার পথ রোধ করতে হবে, মেয়েদের্ একটি অতি নিকট পরিবেশের লোকজন ছাড়া গায়ের মুহাররাম আত্মীয়-স্বজন ও অপরিচিতদের সামনে সাজসজ্জা করে যাওয়া নিষিদ্ধ করতে হবে, পতিতাবৃত্তির পেশাকে চিরতরে বন্ধ করে দিতে হবে, পুরুষদের ও নারীদের দীর্ঘকাল অবিবাহিত রাখা যাবে না, এমনকি গোলাম ও বাঁদীদেরও বিবাহ দিতে হবে। অন্য কথায় বলা যায়, মেয়েদের পরদাহীনতা ও সমাজে বিপুল সংখ্যক লোকের অবিবাহিত থাকাই আল্লাহর জ্ঞান অনুআয়ী এমন সব মৌলিক কার্যকারণ যেগুলোর মাধ্যমে সামাজিক পরিবশে একটি অননুভূত যৌন কামনা সর্বক্ষণ প্রবাহমান থাকে এবং এ যৌন কামনার বশবর্তী হয়ে লোকদের চোখ, কাণ, কণ্ঠ, মন-মানস সবকিছুই কোন বাস্তব বা কাল্পনিক কেলেংকারিতে (Scandal) জড়িত হবার জন্য সবসময় তৈরী থাকে। এ দোষ ও ত্রুটি সংশোধন করার জন্য আলোচ্য পরদার বিধিসমূহের চেয়ে বেশী নির্ভুল, উপযোগী ও প্রভাবশালী অন্য কোন কর্মপন্থা আল্রাহর জ্ঞান-ভাণ্ডারে ছিল না। নয়তো তিনি এগুলো বাদ দিয়ে অন্য বিধান দিতেন। দুইঃ এ সুযোগে দ্বিতীয় যে কথাটি বুঝে নিতে হবে সেটি হচ্ছে এই যে, আল্লাহর শরীয়াত কোন অসৎকাজ নিছক হারাম করে দিয়ে অথবা তাকে অপরাধ গন্য করে তার জন্য শাস্তি নির্ধারিত করে দেয়াই যথেষ্ট মনে করে না বরং যেসব কার্যকারণ কোন ব্যক্তিকে ঐ অসৎকাজে লিপ্ত হতে উৎসাহিত করে অথবা তার জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দেয় কিংবা তাকে তা করতে বাধ্য করে, সেগুলোকেও নিশ্চিহ্ন করে দেয়। তাছাড়া শরীয়াত অপরাধের সাথে সাথে অপরাধের কারণ, অপরাধের উদ্যোক্তা ও অপরাধের উপায়-উপকরণাদির ওপরও বিধি নিষেধ আরোপ করে। এভাবে আসল অপরাধের ধারে কাছে পৌছার আগেই অনেক দূর থেকেই মানুষকে রুখে দেয়া হয়। মানুষ সবসময় অপরাধের কাছ দিয়ে ঘোরাফেরা করতে থাকবে এবং প্রতিদিন পাকড়াও হতে ও শাস্তি পেতে থাকবে, এটাও সে পছন্দ করে না। সে নিছক একজন অভিযোক্তাই (Prosecutor) নয় বরং একজন সহানুভূতিশীল সহযোগী, সংস্কারকারী ও সাহায্যকারীও। তাই সে মানুষকে অসৎকাজ থেকে নিষ্কৃতিলাভের ক্ষেত্রে সাহায্য করার উদ্দেশ্যই সকল প্রকার শিক্ষামূলক, নৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা অবলম্বন করে। ''লোকদের গৃহে প্রবেশ করো না যতক্ষণ না তাদেরকে অন্তরংগ করে নেবে অথবা তাদের সম্মতি জেনে নেবে।'' অর্থাৎ একথা না জেনে নেবে যে, গৃহমালিক তোমার আসাকে অপ্রীতিকর বা বিরক্তিকর মনে করছে না এবং তার গৃহে তোমার প্রবেশকে সে পছন্দ করছে। حَتَّىٰ تَسْتَأْنِسُوا وَتُسَلِّمُوا عَلَىٰ أَهْلِهَا

ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ

যতক্ষণ না গৃহবাসীদের সম্মতি লাভ করো এবং তাদেরকে সালাম করো ৷এটিই তোমাদের জন্য ভালো পদ্ধতি, আশা করা যায় তোমরা এদিকে নজর রাখবে ৷ জাহেলী যুগে আরববাসীদের নিয়ম ছিল, তারা সুপ্রভাত, শুভ সন্ধ্যা বলতে বলতে নিসংকোচ সরাসরি একজন অন্যজনের গৃহে প্রবেশ করে যেতো। অনেক সময় বহিরাগত ব্যক্তি গৃহ মালিক ও তার বাড়ির মহিলাদেরকে বেসামাল অবস্থায় দেখে ফেলতো। আল্লাহ এর সংশোধনের জন্য্ এ নীতি নির্ধারণ করেন যে, প্রত্যেক ব্যক্তির যেখানে সে অবস্থান করে সেখানে তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা 4 (Privacy) রক্ষা করার অধিকার আছে এবং তার সম্মতি ও অনুমতি ছাড়া তার এ গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ করা অন্য ব্যক্তির জন্য জায়েয নয়। এ হুকুমটি নাযিল হবার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমাজে যেসব নিয়ম ও রীতিনীতির প্রচলন করেনঃ একঃ নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যক্তিগত গোপনীয়তার এ অধিকারটিকে কেবলমাত্র গৃহের চৌহদ্দীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি। বরং একে একটি সাধারণ অধীকার গণ্য করেন। এ প্রেক্ষিতে অন্যের গৃহে উঁকি ঝুঁকি মারা, বাহির থেকে চেয়ে দেখা এমনি অন্যের চিঠি তার অনুমতি ছাড়া পড়ে ফেলা নিষিদ্ধ। হযরত সওবান (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আজাদ করা গোলাম) বর্ণনা করেছেন, নবী করীম (সা) বলেনঃ ''দৃষ্টি যখন একবার প্রবশ করে গেছে তখন আর নিজের প্রবেশ করার জন্য অনুমতি নেবার দরকার কি৷'' (আবু দাউদ) হযরত হুযাইল ইবনে শুরাহবীল বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালামের কাছে এলেন এবং ঠিক তাঁর দরজার ওপর দাঁড়িয়ে অনুমতি চাইলেন। নবী (সা) তাকে বললেন, ''পিছনে সরে গিয়ে দাঁড়াও, যাতে দৃষ্টি না পড়ে সে জন্যই তো অনুমতি চাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।' (আবু দাউদ) নবী করীমের (সা) নিজের নিয়ম ছিল এই যে, যখন কারোর বাড়িতে যেতেন, দরজার ঠিক সামনে কখনো দাঁড়াতেন না। কারণ সে যুগে ঘরের দরজায় পরদা লটকানো থাকত না। তিনি দরজার ডান পাশে বা বাম পাশে দাঁড়িয়ে অনুমতি চাইতেন। (আবু দাউদ) রসূলুল্লাহর (সা) খাদেম হযরত আনাস বলন, এক ব্যক্তি বাইরে থেকে রসূলের (সা) কামরার মধ্যে উঁকি দিলেন। রসূলুল্লাহর (সা) হাতে সে সময় একটি তীর ছিল। তিনি তার দিকে এভাবে এগিয়ে এলেন যেন তীরটি তার পেটে ঢুকিয়ে দেবেন। (আবু দাউদ) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেন, নবী (সা) বলেছেনঃ ''যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের অনুমতি ছাড়া তার পত্রে চোখ বুলালো সে যেন আগুনের মধ্যে দৃষ্টি ফেলছে।'' (আবুদ দাউদ) বুখারী ও মুসলিমে উদ্ধৃত হয়েছে,নবী (সা) বলেছেনঃ ''যদি কোন ব্যক্তি তোমার গৃহে উঁকি মারে এবং তুমি একটি কাঁকর মেরে তার চোখ কানা করে দাও, তাহলে তাতে কোন গোনাহ হবে না।'' এ বিষয়বস্তু সম্বলিত অন্য একটি হাদীসে বলা হয়েছেঃ ''যে ব্যক্তি কারোর ঘরে উঁকি মারে এবং ঘরের লোকেরা তার চোখ ছেঁদা করে দেয়, তবে তাদের কোন জবাবদিহি করতে হবে না।'' দুইঃ ফকীহগণ শ্রবণ শক্তিকেও দৃষ্টিশক্তির হুকুমের অন্তরভূক্ত করেছেন। যেমন অন্ধ ব্যাক্তি যদি বিনা অনুমতিতে আসে তাহলে তার দৃষ্টি পড়বে না ঠিকই কিন্তু তার কান তো গৃহবাসীদের কথা বিনা অনুমতিতে শুনে ফেলবে । এ জিনিসটিও দৃষ্টির মতো ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারে অবৈধ হস্তক্ষেপ। তিনঃ কেবলমাত্র অন্যের গৃহে প্রবেশ করার সময় অনুমতি নেবার হুকুম দেয়া হয়নি। বরং নিজের মা-বোনদের কাছে যাবার সময়ও অনুমতি নিতে হবে। এ ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলো, আমি কি আমার মায়ের কাছে যাবার সময়ও অনুমতি চাইবো৷ জবাব দিলেন, হাঁ। সে বললো, আমি ছাড়া তাঁর সেবা কারার আর কেউ নেই। এক্ষেত্রে কি আমি যতবার তাঁর কাছে যাবো প্রত্যেকবার অনুমতি নেবো৷ জবাব দিলেন, ''তুমি কি তোমার মাকে উলংগ অবস্থায় দেখতে পছন্দ কর৷'' (ইবনে জারীর এ মুরসাল হাদীসটি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেছেন) আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের উক্তি হচ্ছে, ''নিজেদের মা-বোনদের কাছে যাবার সময়ও অনুমতি নিয়ে যাও।'' (ইবনে কাসীর) বরং ইবনে মাসউদ তো বলেন, নিজের ঘরে নিজের স্ত্রীর কাছে যাবার সময়ও অন্ততপক্ষে গলা খাঁকারী দিয়ে যাওয়া উচিত। তাঁর স্ত্রীর যয়নবের বর্ণনা হচ্ছে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ যখনই গৃহে আসতে থাকেন তখনই আগেই এমন কোন আওয়াজ করে দিতেন যাতেন তিনি আসছেন বলে জানা যেতো। তিনি হঠাৎ ঘরের মধ্যে এসে যাওয়া পছন্দ করতেন না। (ইবনে জারীর চারঃ শুধুমাত্র এমন অবস্থায় অনুমতি চাওয়া জরুরী নয় যখন কারোর ঘরে হঠাৎ কোন বিপদ দেখা দেয়া। যেমন, আগুন লাগে অথবা কোন চোর ঢোকে। এ অবস্থায় সাহায্য দান করার জন্য বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করা যায়। পাঁচঃ প্রথম প্রথম যখন অনুমতি চাওয়ার বিধান জারি হয় তখন লোকেরা তার নিয়ম কানুন জানতো না। একবার এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসে এবং দরজা থেকে চিৎকার করে বলতে থাকে ( আমি কি ভেতরে ঢুকে যাবো৷) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বাঁদী রওযাহকে বলেন, এ ব্যক্তি অনুমতি চাওয়ার নিয়ম জানে না। একটু উঠে গিয়ে তাকে বলে এস,(আসসালামু আলাইকুম, আমি কি ভিতরে আসতে পারি৷) বলতে হবে। (ইবনে জারির ও আবু দাউদ) জাবের ইবনে আবদুল্লাহ বলে, আমি আমার বাবার ঋণের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গেলাম এবং দরজায় করাঘাত করলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কে৷ আমি বললাম, আমি । তিনি দু-তিনবার বললেন, ''আমি৷ আমি৷' অর্থাৎ এখানে আমি বললে কে কি বুঝবে যে, তুমি কে৷ (আবু দাউদ) কালাদাহ ইবনে হাম্বল নামে এক ব্যক্তি কাজে নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গেলেন। সালাম 5 ছাড়াই এমনই সেখানে গিয়ে বসলেন। তিনি বললেন, বাইরে যাও এবং আস্‌সালামু আলাইকুম বলে ভেতরে এসো। (আবু দাউদ) অনুমতি চাওয়ার সঠিক পদ্ধতি ছিল, মানুষ নিজের নাম বলে অনুমতি চাইবে। হযরত উমরের (রা) ব্যাপারে বর্ণিত আছে নবী করীমের (সা) খিদমতে হাজির হয়ে তিনি বলতেনঃ ''আসসালামু আলাইকুম, হে আল্লাহর রসূল ! উমর কি ভেতরে যাবে৷''(আবু দাউদ) অনুমতি নেবার জন্য নবী করীম (সা) বড় জোর তিনবার ডাক দেবার সীমা নির্দেশ করেছেন এবং বলেছেন যদি তিনবার ডাক দেবার পরও জবাব না পাওয়া যায়, তাহলে ফিরে যাও। (বুখারী মুসলিম, আবু দাউদ) নবী (সা) নিজেও এ পদ্ধতি অনুসরণ করতেন। একবার তিনি হযরত সা'দ ইবনে উবাদার বাড়ীতে গেলেন এবং আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ বলে দু'বার অনুমতি চাইলেন । কিন্তু ভেতর থেকে জবাব এলো না । তৃতীয় বার জবাব না পেয়ে তিনি ফিরে গেলেন । হযরত সা'দ ভেতর থেকে দৌড়ে এলেন এবং বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল ! আমি আপনার আওয়াজ শুনছিলাম । কিন্তু আমার মন চাচ্ছিল আপনার মুবারক কন্ঠ থেকে আমার জন্য যতবার সালাম ও রহমতের দোয়া বের হয় ততই ভালো, তাই আমি খুব নীচু স্বরে জবাব দিচ্ছিলাম । ( আবু দাউদ ও আহমাদ) এ তিনবার ডাকা একের পর এক হওয়া উচিত নয় বরং একটু থেমে হতে হবে। এর ফলে ঘরের লোকেরা যদি কাজে ব্যস্ত থাকে এবং সে জন্য তারা জবাব দিতে না পারে তাহলে সে কাজ শেষ করে জবাব দেবার সুযোগ পাবে। ছয়ঃ গৃহমালিক বা গৃহকর্তা অথবা এমন এক ব্যক্তির অনুমতি গ্রহণযোগ্য হবে যার সম্পর্কে মানুষ যথার্থই মনে করবে যে, গৃহকর্তার পক্ষ থেকে সে অনুমতি দিচ্ছে । যেমন, গৃহের খাদেম অথবা কোন দায়িত্বশীল ব্যক্তি । কোন ছোট শিশু যদি বলে, এসে যান, তাহলে তার কথায় ভেতর প্রবেশ করা উচিত নয় । সাতঃ অনুমতি চাওয়ার ব্যাপারে অযথা পীড়াপীড়ি করা অথবা অনুমতি না পাওয়ায় দরজার ওপর অনড় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা জায়েয নয়। যদি তিনবার অনুমতি চাওয়ার পর গৃহকর্তার পক্ষ থেকে অনুমতি না পাওয়া যায় বা অনুমতি দিতে অস্বীকার জানানো হয়, তাহলে ফিরে যাওয়া উচিত ।

শিক্ষাঃ

১। কারো ঘরে প্রবেশ করার জন্য অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। ২।এর উপকারিতা বহুবিধ। যেমন, এর ফলে অন্যের ঘরে অনাবশ্যক প্রবেশ বা অসময় প্রবেশ বন্ধ হয়ে যাবে। এরূপ প্রবেশের ফলে গৃহবাসীদের কষ্ট হয়ে থাকে। তাছাড়া বিনা অনুমতিতে প্রবেশের ফলে অন্যায়-অশ্লীল কাজ সংঘটিত হওয়া বা তার বিস্তার ঘটার সম্ভাবনা থাকে। অনুমতি গ্রহণ দ্বারা তারও রোধ হবে। অনুমতি কিভাবে গ্রহণ করতে হবে আয়াতে তাও শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

আহবানঃ

সম্মানিত ভাই/বোনেরা আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক নির্ধারিত ফরজ হুকুম পর্দা,আমাদের পারিবারিক জীবন হতে সর্ব প্রথম এর আমল শুরু করা জরুরী। আমরা আমাদের সন্তান,ভাই বোন হিতাকাংখী সবাইকে এ বিষয়ে যে কোন কৌশলে দাওয়াত পৌছে দেয়া এখন সময়ের দাবী,লেখার ভিতর কো ভূলত্রুটি হলে মার্জনার সাথে দেখবেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে পর্দার বিধান নিজের পরিবারের সমাজের ভিতর প্রতিষ্ঠার তৌফিক আল্লাহ দান করুন। আমিন

সংস্কারের পথে ইসলামী বিপ্লব মাওলানা আব্দুল হান্নান

ভূমিকাঃ

জীবনের সসবটুকু প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার জন্য। দরূদ ও সালাম মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবায়ে কেরাম আজমাঈন এবং উম্মাহাতুল মোমেনীনদের জন্য।আল্লাহ রহম করুন ঐ সমস্ত মর্দে মুজাহীদদের প্রতি যাদের ধারাবাহিক অবদানে ইসলাম আজ আমাদের পযর্ন্ত পৌছিয়েছে।উপমহাদেশে ইসলামী বিপ্লব প্রতিষ্ঠা হয়েছিল হক্বের পক্ষে,মানবতার পক্ষে,মজলুমের পক্ষে কোরআন সুন্নাহর আলোকে সৎ চরিত্রের জনবলের সোচ্ছারের মাধ্যম দিয়ে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইন ও সৎলোকের শাসন বাস্তবায়ন করার জন্য।সুরা নূরের ৫৫ নং আয়াতের আলোকেই আমার লেখাوَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَىٰ لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُم مِّن بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا ۚ يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا ۚ وَمَن كَفَرَ بَعْدَ ذَٰلِكَ فَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তাদেরকে অবশ্যই পৃথিবীতে শাসনকর্তৃত্ব দান করবেন। যেমন তিনি শাসনকতৃত্ব দান করেছেন তাদের পূর্ববতীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই সুদৃঢ় করবেন তাদের ধর্মকে, যা তিনি তাদের জন্যে পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়-ভীতির পরিবর্তে অবশ্যই তাদেরকে শান্তি দান করবেন। তারা আমার এবাদত করবে এবং আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না। এরপর যারা অকৃতজ্ঞ হবে, তারাই অবাধ্য। উপমহাদেশে ইসলামী বিপ্লবের দীর্ঘ সময় বা বছরেও আমরা এই আয়াতের দাবী এখনো পুরন করতে সক্ষম হয়নি।একটা কথায় আছে সঙ্গদোষে লোহা ভাসে। ইসলামী বিপ্লবের সংগঠনের ভিতর কিছু সুবিধাবাদী লোক বুদ্ধিজিবী,পুরাতন,বড়লোক শিক্ষিত ইত্যাদী লকব নিয়ে কিছু কুপরামর্শের দ্বারা এখলাসহীন এবং ইমান ও আমলে সালেহ এর পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার কারণে আল্লাহ তায়ালা জমিনে এই জাতীয় মানুষদের দ্বারা তৈরী দলকে খেলাফত দিচ্ছেননা।আমরা সাংগঠনিক ভাবে সেই লোক গুলোকে সংশোধন করে সামনে এগুতে চাই।আল্লাহ তৌফিক দান করুন আমিন। ইসলামী বিপ্লবের পথে যে সমস্ত অন্তরায় বা ত্রুটি বিচ্যুতি সমুহ আমাদের মাঝে আছে আমরা পযার্য়ক্রমে প্রথমে সেগুলোর আলোচনা করবো এবং পাশাপাশি তা থেকে উত্তোরণের উপাই সম্পর্কে জানবো এবং আমল করবো।আমাদের এমন কিছু অপ্রত্যাশিত ঈমানী ও আমলে সালেহের গলদ রয়েছে যার কারণে আল্লাহ আমাদেরকে দুনিয়াতে এখনো রাষ্ট্র ক্ষমতা দিচ্ছেন না।

খেলাফত,ইমান ও আমলে সালেহের পথে অন্তরায় সমুহঃ

১। দুনিয়াবী রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের ন্যায় মনোভাব

২। প্রদর্শনেচ্ছা।

৩। অধিক প্রেষনা।

৪। উদারতার নামে আয়েশী জীবন যাপন।

৫। বায়তুল মালের অসচ্ছতা।

৬। প্রশ্নবিদ্ধ সুরত ও নৈতিকতা।

৭। অসচ্ছ সদস্য(রোকন) তৈরী।

৮। মহিলাদের অর্থনৈতিক অসচ্ছতা ও পুরুষ নেতা নির্বাচনে ভোটদান।

৯। বাহিরের ইমাম মসজীদের ইমামের ন্যায় না হওয়া।

১০। একাধিক গ্রুপে বিভক্ত।

১১। বয়স্ক আলেমদের অবমূল্যায়ন।

১২। যে যা না তা দাবী করে আত্মতুষ্ট হওয়া।

১। দুনিয়াবী রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের ন্যায় মনোভাবঃ

বিনা পুঁজির ব্যবসা হচ্ছে দুনিয়া প্রাপ্তির রাজনীতি,কিভাবে ক্ষমতাধর হবো,কিভাবে গাড়িবাড়ী করবো? কিভাবে আর একজনকে দমিয়ে নিজে সেই জায়গা দখল করবো ইত্যাদীর মত ইসলামী বিপ্লবের কোন জনশক্তি যদি মনে করে কিভাবে দুনিয়া প্রাপ্তির রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গঠন করতে হবে? এই দলের রাজনীতি করে আমাকে কিভাবে ক্ষমতাধর হতে হবে,কিভাবে কিছু অর্জন করতে হবে,কিভাবে বাজারঘাট দখল করা যাবে, কিভাবে নেতৃত্ব পাওয়া যাবে, আমির সাহেবকে ধরে কোন সুবিধা পাওয়া যাবে কিনা?ক্ষমতা পেলে কিভাবে বিরুদ্ধবাদীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়া যাবে টপ টু বটম যে কোন নেতার বা কর্মী সহযোগীর ভিতর এরকম সামান্যতম কোন আকাংখা অন্তরে ধারন করে ময়দানে কাজ করলে সেখানে আল্লাহর প্রাপ্তি আসবেনা। ইসলামী বিপ্লবের পথে পা দেয়ার সাথে সাথে এ কথা মনের ভিতর বদ্ধমুল করে নিতে হবে যে, দুনিয়াবী স্বার্থ ত্যাগ করে ইসলামী বিপ্লব আল্লাহকে দেবার জন্য, আল্লহর সন্তুষ্টি ও আল্লাহর জান্নাত ব্যতিত দুনিয়াতে কোন কিছু পাবার জন্য নয়। মক্কার জীবনে এটার বাস্তব প্রমান সাহাবায়ে কেরাম রাঃ দুনিয়াবী স্বার্থ আত্মীয়তার বন্ধন সব কিছুকে পিছে রেখে আপল্লাহ ও তার রাসূলের মহব্বতে হিজরত করেছেন,সম্পদ দিয়েছেন,জীবন দিয়েছেন তারপরে একটা ইসলামী রাষ্ট্র পেয়েছেন।এ জন্য প্রতিটা স্তরের নেতাকে তার অধিনস্থদের প্রেষনা দিতে হবে এবং অধিনস্থদের অবশ্যই আল্লাহর সন্তুষ্টি মুখি করতে হবে। بَلْ تُؤْثِرُونَ الْحَيَاةَالدُّنْيَا- وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَى কিন্তু তোমরা পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাক। অথচ আখিরাত উত্তম ও চিরস্থায়ী। (আ‘লা ১৬-১৭)। عَنِ الْمُسْتَوْرِدِ بْنِ شَدَّادٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ الله يَقُوْلُ وَاللهِ مَا الدُّنْيَا فِى الْاَخِرَةِ اِلَّا مِثْلَ مَايَجْعَلُ اَحَدُكُمْ اِصْبَعَهُ فِى الْيَمِّ فَلْيَنْظُرْ بِمَ يَرْجِعُ মুস্তাওরিদ ইবনে শাদ্দাদ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি আল্লাহর কসম পরকালের তুলনায় দুনিয়ার উদাহরণ হল যেমন তোমাদের কেউ সাগরের মধ্যে নিজের একটি আঙ্গুল ডুবানোর পর লক্ষ্য করে দেখুক আঙ্গুল কি পরিমাণ পানি নিয়ে আসল (মুসলিম, মিশকাত হা/৫১৫৬)। অত্র হাদীছে বুঝানো হয়েছে আঙ্গুলের পানি এবং সাগরের পানি কম-বেশ হওয়ার ব্যাপারে তুলনা যেমন ইহকাল ও জান্নাতের তুলনা তেমন। عَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ مَرَّ بِجَدْيٍ أَسَكَّ مَيِّتٍ فَقَالَ أَيُّكُمْ يُحِبُّ أَنَّ هَذَا لَهُ بِدِرْهَمٍ فَقَالُوْا مَا نُحِبُّ أَنَّهُ لَنَا بِشَيْءٍ قَالَ فَوَاللهِ لَلدُّنْيَا أَهْوَنُ عَلَى اللهِ مِنْ هَذَا عَلَيْكُمْ জাবের (রা.) হতে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ (সা.)একটি কান কাটা মৃত বকরীর বাচ্চার নিকট দিয়ে অতিক্রমকালে বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে, যে এটাকে এক দিরহামের বিনিময়ে নিতে পসন্দ করবে? তারা বললেন, আমরা তো এটাকে কোন কিছুর বিনিময়েই নিতে পসন্দ করব না। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! এটা তোমাদের কাছে যতটুকু নিকৃষ্ট, আল্লাহর কাছে দুনিয়া (এবং তার সম্পদ) এর চাইতেও অধিক নিকৃষ্ট’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৫১৫৭)। عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الدُّنْيَا سِجْنُ الْمُؤْمِنِ وَجَنَّةُ الْكَافِرِ আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)বলেছেন, ‘দুনিয়া মুমিনের জন্য জেলখানা এবং কাফেরের জন্য জান্নাত’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৫১৫৮)। عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم حُجِبَتِ النَّارُ بِالشَّهْوَاتِ وَحُجِبَتِ الْجَنَّةُ بِالْمَكَارِهِ আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)বলেছেন, ‘জাহান্নামকে কামনা-বাসনা দ্বারা ঢেকে রাখা হয়েছে। আর জান্নাতকে ঢেকে রাখা হয়েছে বিপদ-মুছীবত দ্বারা’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৫১৬০)। عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «قَدْ أَفْلَحَ مَنْ أَسْلَمَ وَرُزِقَ كَفَافًا وَقَنَّعَهُ اللهُ بِمَا آتَاهُ» আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, সে ব্যক্তিই সফলকাম হয়েছে, যে ইসলাম গ্রহণ করল এবং তাকে প্রয়োজনমাফিক রিযক প্রদান করা হল এবং আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন তাতে সন্তুষ্ট থেকেছে। (মুসলিম, মিশকাত হা/৫১৬৫)। عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: ارْتَحَلَتِ الدُّنْيَا مُدْبِرَةً وَارْتَحَلَتِ الْآخِرَةُ مُقْبِلَةً وَلِكُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا بَنُونَ فَكُونُوا مِنْ أَبْنَاءِ الْآخِرَةِ وَلَا تَكُونُوا مِنْ أَبْنَاءِ الدُّنْيَا فَإِنَّ الْيَوْمَ عَمَلٌ وَلَا حِسَابَ وَغَدًا حِسَابٌ وَلَا عَمَلَ. আলী (রাঃ) বলেন, দুনিয়া পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে চলে যাচ্ছে, আর আখেরাত সম্মুক্ষে আসছে। আর তাদের প্রত্যেকটির সন্তানাদি রয়েছে। তবে তোমরা আখেরাতের সন্তান হও, দুনিয়ার সন্তান হয়ো না। কেননা, আজ আমলের সময়, এখানে কোন হিসাব নেই। আর আগামীকাল হিসাব-নিকাশ হবে, সেখানে কোন আমল নেই (বুখারী, মিশকাত হা/৫২১৫)। সূরা আ‘লার শেষ অংশে আল্লাহ বলেন, قَدْ اَفْلَحَ مَنْ تَزَكّٰی وَ ذَكَرَ اسْمَ رَبِّهٖ فَصَلّٰی بَلْ تُؤْثِرُوْنَ الْحَیٰوةَ الدُّنْیَاۖ وَ الْاٰخِرَةُ خَیْرٌ وَّ اَبْقٰی اِنَّ هٰذَا لَفِی الصُّحُفِ الْاُوْلٰی صُحُفِ اِبْرٰهِیْمَ وَ مُوْسٰی. সফলতা অর্জন করেছে সে-ই, যে পবিত্রতা অবলম্বন করেছে। এবং নিজ প্রতিপালকের নাম নিয়েছে ও নামায পড়েছে। কিন্তু তোমরা পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দাও অথচ আখেরাত কত বেশি উৎকৃষ্ট ও কত বেশি স্থায়ী। নিশ্চয়ই এ কথা পূর্ববর্তী (আসমানী) গ্রন্থসমূহেও লিপিবদ্ধ আছে; ইবরাহীম ও মূসার গ্রন্থসমূহে।” এর পরেও কি ইসলামী বিপ্লবের পথে শহিদী কাফেলার সিপাহশালারা দুনিয়া চাওয়া পাওয়া নেতাদের ন্যায় নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে পারে? কখনো না।

২। প্রদর্শনেচ্ছাঃ

সাফল্যের শর্তাবলী বইটা কর্মীদের এত পড়ানোর পরেও এই রোগটি ইসলামী আন্দোলনের টপ টু বটম সকল স্তরের ৯০ শতাংশ জনশক্তির ভিতর ভয়াবহ মরনবব্যধী ক্যান্সারের আকার ধারন করেছে।কোন মতেই থামানো যাচ্ছেনা প্রদর্শনেচ্ছা।নেতার সাথে ছবি তুলতেই হবে,নেতার সাথে সেলফী উঠাতেই হবে,নেতাকে দেখিয়ে সামনে সামনে ঘুরতেই হবে,চেয়ারে বসে আমার ছবিটা উঠছে কিনা? পোস্টারে আমার ছবিটা সুন্দর দেখাচ্ছে কিনা? ইত্যাদী মরন ব্যাধিতে ধরেছে উম্মতকে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ الشِّرْكُ الأَصْغَرُ قَالُوا وَمَا الشِّرْكُ الأَصْغَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ الرِّيَاءُ يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِذَا جُزِيَ النَّاسُ بِأَعْمَالِهِمْ اذْهَبُوا إِلَى الَّذِينَ كُنْتُمْ تُرَاءُونَ فِي الدُّنْيَا فَانْظُرُوا هَلْ تَجِدُونَ عِنْدَهُمْ جَزَاءً ‘‘আমি সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি তোমাদের ব্যাপারে ভয় পাই তা হলো শিরক আসগার বা ক্ষুদ্রতর শিরক। সাহাবীগণ প্রশ্ন করেন: হে আল্লাহর রাসূল, শিরক আসগার কী? তিনি বলেন: রিয়া বা প্রদর্শনেচ্ছা। কিয়ামতের দিন যখন মানুষদেরকে তাদের কর্মের প্রতিফল দেওয়া হবে তখন মহান আল্লাহ এদেরকে বলবেন, তোমরা যাদের দেখাতে তাদের নিকট যাও, দেখ তাদের কাছে তোমাদের পুরস্কার পাও কি না!’ আহমদ, আল-মুসনাদ ৫/৪২৮-৪২৯; এক হাদীসে আবূ সাঈদ খুদরী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন: أَلا أُخْبِرُكُمْ بِمَا هُوَ أَخْوَفُ عَلَيْكُمْ عِنْدِي مِنْ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ قَالَ قُلْنَا بَلَى فَقَالَ الشِّرْكُ الْخَفِيُّ أَنْ يَقُومَ الرَّجُلُ يُصَلِّي فَيُزَيِّنُ صَلاتَهُ لِمَا يَرَى مِنْ نَظَرِ رَجُلٍ ‘‘দাজ্জালের চেয়েও যে বিষয় আমি তোমাদের জন্য বেশি ভয় পাই সে বিষয়টি কি তোমাদেরকে বলব না? আমরা বললাম, হ্যাঁ, অবশ্যই বলুন। তিনি বলেন, বিষয়টি গোপন শির্ক। গোপন শির্ক এই যে, একজন সালাতে দাঁড়াবে এরপর যখন দেখবে যে মানুষ তার দিকে তাকাচ্ছে তখন সে সালাত সুন্দর করবে।ইবনু মাজাহ, আস-সুনান ২/১৪০৬ উল্লেখিত দুটি হাদিসে রাসুলুল্লাহর উপর যদি ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের বিশ্বাস থাকে তাহলে কি প্রদর্শনেচ্ছা কাজগুলো করতে পারে? আর এই জাতীয় লোকদের ইসলামী আন্দোলনে যোগদানের মাধ্যমে কিভাবে আল্লাহ রাষ্ট্র ক্ষমতার মত এতবড় নিয়ামত দান করবেন? এই জাতীয় মানুসীকতা উম্মত যতক্ষণ পরিহার না করবে ততক্ষন সফলতার প্রত্যাশা অপেক্ষমান নিরাশায় পরিনত হবে।

৩। অধিক বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়িঃ

ইসলামে অধিক বাড়াবাড়ি এবং ছাড়াছাড়ির কোন অবকাশ নেই।ইসলামে বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি উভয়টিই নিন্দনীয়। ইসলাম একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন ব্যবস্থার শিক্ষা দেয়, যেখানে প্রতিটি বিষয়ে মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি উভয়টিই সীমা লঙ্ঘন এবং ইসলামের মূল শিক্ষা পরিপন্থী। یٰۤاَهۡلَ الۡكِتٰبِ لَا تَغۡلُوۡا فِیۡ دِیۡنِكُمۡ وَ لَا تَقُوۡلُوۡا عَلَی اللّٰهِ اِلَّا الۡحَقَّ ؕ হে কিতাবীগণ, তোমরা তোমাদের দীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর উপর সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলো না।নিসা ১৭১ আয়াত یُرِیۡدُ اللّٰهُ بِكُمُ الۡیُسۡرَ وَ لَا یُرِیۡدُ بِكُمُ الۡعُسۡرَ আল্লাহ তোমাদের সহজ চান এবং কঠিন চান না।বাকারা১৮৫ আয়াত নেতা এবং কর্মীদের মাঝে কোন বিষয় নিয়ে এমন বাড়াবাড়ি করা যাবেনা যা কষ্টসাধ্য,আবার এমনভাবে ছেড়েও দেয়া যাবেনা যার কারণে সংগঠন অস্তিত্ব সংকটে পড়ে। ব্যক্তি কেন্দ্রিক বাড়াবাড়ি ছাড়াছাড়ির বেশ কিছু গল্প আমাদের মাঝে প্রচলিত আছে যেগুলোও সংগঠন তথা এখলাছের অগ্রগতির পথে বাঁধা হিসাবে কাজ করে। অনেকগুলোর ভিতর একটা উদারহণ দেই যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ করেছেন তোমরা দাড়ি বড় করো মোচ কেটে ফেলো, এখন আমরা মোচের পাশাপাশি দাড়িও ছেটে ফেলছি এটাকে বলে ছাড়াছাড়ি,আবার নুতন একজন দাড়িকাটা লোক সংগঠনে যোগদান করেছে দাড়ি বড় যাদের তারা তাকে প্রাথমিক পযার্য়েই দাড়ি নাই কেনো বলে নকআউট করে দিচ্ছে এটা বাড়াবাড়ি। আর সংগঠন করতে করতে বুড়া হয়ে গেছে এখনো দাড়ি বড় করতে পারেনি এটা তার ইমানী দৈন্যতা এবং ছাড়াছাড়ির মাষ্টার।আর একটা বাড়াবাড়ি ছাড়াছাড়ি আছে পোশাক নিয়ে,অঞ্চল ভেদে পোশাক মনের ভিতর প্রভাব বিস্তার করে তবে মুসলমানদের পোশাকের সাথে পাশ্চাত্য ধাচের পোশাকের অনুসরনকে তাশাব্বাহু বি কওমীন ধরা হয়েছে। উপমহাদেশের ১০ জন সাধারণ মানুষের সামনে একজনকে দাড়ি কেটে পাশ্চাত্য ধাচের শার্ট প্যান্ট টাই পরিয়ে আর একজনকে পাজামা পাঞ্জাবী মুখভর্তি দাড়ি টুপি পরিয়ে দাড় করায়ে বলবেন কাকে দেখলে তোমার খোদাভীতির কথা মনে পড়ে? দেখবেন অন্তত আটজনের ভোট পাজামা পাঞ্জাবী দাড়ি টুপির উপর পড়বে। আমি কি বলতে চেয়েছি আমার পাঠকেরা হইত এতক্ষনে বুঝতে পেরেছে।

অনলাইন পোর্টাল বাংলাদেশ জন- জামায়াতে ইসলামী, সদা সত্য প্রকাশে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

আপনার মতামত নিজের মনগড়া না দিয়ে কোরআন সুন্নাহর দলিল মোতাবেক দিন

সম্পাদকীয়

জীবনের সবটুকু প্রসংশা আল্লাহর জন্য,দরূদ ও ছালাম জানাই সর্বশেষ পয়গাম্বর মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়াসাল্লাম এবং আহলে বাইত ও সাহাবায়ে কেরাম আজমাঈন রাঃ প্রতি। জামায়াতে ইসলামীকে যারা ভালোবেসে ভোট দেই,টাকা দেই তারা চাই আমার নেতাটা হবে মসজীদের ইমামের মত মুখভর্তি লম্বা দাড়ি,পরনে থাকবে নেসফেসাক খোদা ভীতির পোশাক।যাদেরকে দেখলেই আল্লাহর কথা মনে পড়ে যাবে। দিল চলে যাবে সাড়ে চৌদ্দশত বছর পিছনে খোলাফায়ে রাশেদার দিক। যাদের নেতৃত্বের পাশে থাকতো যোগ্য উত্তরসুরী,কোনকিছু প্রাপ্তির জন্য কেউ ঘুরঘুর করতোনা। চাটুকারীর আভাসে যাদের মুখে ধুলা নিক্ষেপ করা হতো। যারা দুনিয়ার বুকে কোরআন সুন্নাহর হুকুম প্রতিষ্ঠা করবে যেভাবে করেছেন আল্লাহর রাসুল এবং সাহাবায়ে কেরাম রাঃ । আর আমরা তাদের সমর্থন দিয়ে নিজেদেরকে আল্লাহর সমীপে হাজির হয়ে বলবো ও আল্লাহ তোমার এই দলটাকে তোমার পথের এই মানুষ গুলোকে আমরা ভালো বাসতাম, এটাই হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে সাধারণ জনগনের ধারনা এবং জামায়াতে ইসলামীর কাছে চাওয়া

জনগণ আল্লাহর বিধান মত নেতৃত্ব আশা করে

সুরা নূরের ৫৫ নং আয়াতের আলোকেই আমার লেখাوَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَىٰ لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُم مِّن بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا ۚ يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا ۚ وَمَن كَفَرَ بَعْدَ ذَٰلِكَ فَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তাদেরকে অবশ্যই পৃথিবীতে শাসনকর্তৃত্ব দান করবেন। যেমন তিনি শাসনকতৃত্ব দান করেছেন তাদের পূর্ববতীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই সুদৃঢ় করবেন তাদের ধর্মকে, যা তিনি তাদের জন্যে পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়-ভীতির পরিবর্তে অবশ্যই তাদেরকে শান্তি দান করবেন। তারা আমার এবাদত করবে এবং আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না। এরপর যারা অকৃতজ্ঞ হবে, তারাই অবাধ্য। উপমহাদেশে ইসলামী বিপ্লবের দীর্ঘ সময় বা বছরেও আমরা এই আয়াতের দাবী এখনো পুরন করতে সক্ষম হয়নি।একটা কথায় আছে সঙ্গদোষে লোহা ভাসে। ইসলামী বিপ্লবের সংগঠনের ভিতর কিছু সুবিধাবাদী লোক বুদ্ধিজিবী,পুরাতন,বড়লোক শিক্ষিত ইত্যাদী লকব নিয়ে কিছু কুপরামর্শের দ্বারা এখলাসহীন এবং ইমান ও আমলে সালেহ এর পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার কারণে আল্লাহ তায়ালা জমিনে এই জাতীয় মানুষদের দ্বারা তৈরী দলকে খেলাফত দিচ্ছেননা। তৃনমূল তথা নেতাদের মধ্যে আতংক বিদ্যমান,মনে শান্তি নেই ,কখন জানি কি হয়? এ আয়াতের রহস্য বের করে যতক্ষন সংশোধন না করা যাবে ততক্ষন আল্লাহ খেলাফত কবুল করবেননা। ২০২৬ এর নির্বাচনে গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী ব্যপক আসনে বিজয়ী হওয়ার পর ও রাখতে পারিনি কেন? এই আুয়াতের দাবী পুরন হয়নি।বলতে পারেন বিরোধীরা ক্যামনে পেল ? উত্তর তাদের দাবীতো খেলাাফত না,তাদের দাবী দুনিয়া সেটা তারা পেয়েছে। ইসলাম প্রতিষ্ঠার দাবী নিয়ে আমাদের অভ্যাস যদি তাদের মত হয় তাহলে আল্লাহ তাদের দ্বারা আমাদের দলিত করবেন এটাই আল্লাহর সুন্নাত। জনগণের সমর্থনের কোন অভাব নেই,জনগণ চাচ্ছে তাদের ইসলামী নেতারা ইসলামী নেতার মতই হোক,কোরআন সুন্নাহতে বর্ণিত নেতার মত হোক। আমরা সাংগঠনিক ভাবে সেই লোক গুলোকে সংশোধন করতে যত দেরী করবো ইসলামী খেলাফত আমাদের থেকে ততদূরে যাবে। আমরা সংশোধন হয়ে সামনে এগুতে চাই।আল্লাহ তৌফিক দান করুন আমিন।

আপনি বা আপনার দল কখন ইসলামী খেলাফত পাবেন এবং কল্যান রাষ্ট গঠনে কখন সক্ষম হবেন

সুরা নুরের ৫৫ নং আয়াতাংশের وَعَمِلُواالصَّالِحَاتِ এর ব্যাক্ষায় আপনার নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। উদারহন স্বরূপঃ যে কাজ আপনি সামান্য কষ্ট করলে করতে পারেন সেখাানে যদি তা না করে সংগঠনের পয়সা খরচ করে করেন তাহলে আপনি এখনো প্রস্তুত হননি,আপনার সাড়েতিন হাত শরীরর অঙ্গপ্রত্যঙ্গে এবং মনে যতক্ষন ইসলাম প্রতিষ্ঠা না হবে ততক্ষন রাষ্টে ইসলাম প্রতিষ্ঠা হাস্যকর মাত্র। আপনার আয়ত্বে দশজন মানুষকে সাহায্য করার জন্য কিছু সম্পদ আপনাকে দেয়া হয়েছে আপনি যদি নিজের দিকে ঝুকে তা বন্টন করেন তাহলে আপনি নিজে বিতর্কিত হবেন সম্মান হারা হবেন এবং আপনার কারণে আপনার দল কল্যান রাষ্টের দিকে যেতে পারবেনা। নিজের দিকে ঝুকা বলতে নিজে এবং নিজের আপনজনদের মাঝে বন্টনকে বোঝানো হয়েছে। আপনি কোন কাজ করতে গেলে আপনার মনে যদি শরীয়তের কথা জাগ্রত না হয় এবং সেই মোতাবেক কাজ না করেন তাহলে আপনি এখনো রাষ্ট্র ক্ষমতা পাওয়ার উপযুক্ত হননি। আপনার ভিতর যদি চাটুকারিতা ,তোষামোদ ভাব,কিছু পাবো,কোনকিছু গোপন করা,ফিসফিসে অভ্যাস এমন আকাংখা থাকে তাহলে আপনি এখনো প্রস্তুত হননি। স্বল্প কথায় নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুন আপনার ভিতর এই দোষ সমুহ আছে কিনা? যদি থাকে আজকে থেকে তওবা করে যাত্রা শুরু করুন খথাগুলো বার বার পড়ুন আর নিজের সাথে মিলান।

জামায়াতে ইসলামীর মুখলেছ নেতৃবৃন্দকে এখুনি সতর্ক হতে হবে।

মাঠ পযায়ে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে জামায়াতে ইসলামের নেতা এবং কর্মী পরিচয়ে বেশ বড় একটা শ্রেনী জামায়াতে ইসলামীর মূল লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যকে উপেক্ষা করে অন্যান্য দুনিয়াবী দলের ন্যায় নেতা সাজা,নেতা হওয়া,মেম্বার হওয়ার আকাংখা,চেয়ারম্যান হওয়ার আকাংখায় উর্ধতনদের পিছে ঘুর ঘুর দৌড়ঝাপ,অনুদান বন্টনে নিজস্বপ্রাপ্তিতা ইত্যাদী নানা ধরনের ব্যক্তি স্বার্থের বেড়াজালে মত্ত। এহেন পরিস্থিতির যদি লাগাম না ধরা যায় তাহলে দলটি আস্তে আস্তে আল্লাহর সন্তুষ্টি থেকে দূরে সরে যাবে। সংগঠনে তারবিয়্যতি প্রগাম কাগজে কলমে থাকলেও বাস্তবতায় তা আশানুরূপ ফলাফল অর্জনে সক্ষম হচ্ছেনা। নেতা কর্মীদের নৈতিক চরিত্র গঠনের জন্য তারবিয়্যতি প্রগ্রামের মাধ্যমে সাপ্তাহিক যে প্রেষনা দেয়া প্রয়োজন তা ১০ শতাংশ ও হচ্ছে না। একজন নেতা বা কর্মীর ব্যক্তিগত আদর্শ কেমন হবে তা সিলেবাসে থাকলেও বাস্তব জীবনে তার প্রতিফলন হচ্ছেনা যার প্রেক্ষিতে এগুলো হচ্ছে। নৈতিক চরিত্র সংশোধন, চরিত্র গঠন,মটিভিশন মুলক ক্লাসগুলো যারা নিলে তাছির হবে তাদেরকে দর্শক শ্রোতার কাতারে রেখে যদি ইলমে অপরিপক্ক পদায়নে বড় নেতা পরিচয়ের জন্য তাদেরকে দিয়ে নেয়া হয় সেখানে আল্লাহর রহমতের তাছির হবেনা। রিপোর্ট বইতে মাশাআল্লাহ বোযর্গের ছাপ কিন্ত ব্যক্তি জীবনের উন্নয়ন শুন্যের কোঠায়। আমরা বুকে হাত দিয়ে কি বলতে পারবো বিগত ৬ মাসে দুজন কর্মীকে নৈতিক চারিত্রিক সংশোধনের পিছে সময় ব্যয় করে উপদেশ দিয়েছি? আর এই রোগটিই চিহ্নিত হয়েছে সমীক্ষায়। যার কারনে নেতা কর্মীরা দুনিয়াবী আকাংখার দিকে ধাবিত হচ্ছে বেশি। ফলাফল হিসাবে অন্তর মরে যাচ্ছে, সাহস হারিয়ে যাচ্ছে, অযাচিত দুর্ঘটনা চেপে বসছে। ইমানের মজবুতি কমে যাচ্ছে, দুনিয়াবী আকাংখা বাড়ছে,চাটুকারিতা বাড়ছে,লোভ বাড়ছে সুতরাং এপথ থেকে আমাদের এখুনি ফেরার জন্য যোগ্য মানুষদের সোহবতের মাধ্যমে চরিত্র গঠনে ব্রতি হতে হবে।

ইসলামে আনুগত্য বলতে কি বুঝায় ?

(সুরা তাগাবুন : ১২)(সুরা: আন-নূর, আয়াত: ৫২)(সুরা: আল ইমরান, আয়াত: ৩১)(সুরা হাশর: আয়াত ৭)আল আহযাব, আয়াত: ৭১) আনুগত্য সম্পর্কে কোরআনের যত আয়াত নাযিল হয়েছে সবগুলো হিজরতের পর মদীনা জিন্দেগীতে এবং ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের পর। তার আগে মক্কী জিন্দেগীতে বলা হয়েছে অনুসরনের কথা। অনুসরন এবং আনুগত্যের হকিকত গত পার্থক্য আছে। আনুগত্যের চেইন তিনটি, আল্লাহ, রাসুল এবং আমির বা উলিল আমর

উলিল আমর কে ?

উলিল আমরের ব্যক্ষা আল্লাহর রাসুলের জীবন থেকে নিতে হবে। ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের পর তা রক্ষার জন্য বিভিন্ন জনপদে গভর্ণর বা আমির নিযুক্ত করা হতো এবং কোন রেকী বা জিহাদে সৈন্যদল প্রেরন করলে সেখানে কমান্ডার বা আমির নিযুক্ত করা হতো অথবা কোথাও কোন মুসলমান ছত্রভঙ্গ হয়ে থাকলে সেখানে একজনকে আমির বানিয়ে নিতে বলা হত। এরা সবাই আল্লাহর রাসুলের হতে যে সমস্ত আদেশগুল আসতো তা জনগণকে পালনের জন্য নির্দেশ দিতো। উলিওল আমররা নিজের মনগড়া কোন আদেশ দিতেননা। তবে ময়াজ ইবনে জাবালের একটা হাদিসে আছে রাসুল সাঃ যখন তাকে ইয়েমেনের গভর্ণর করে পাঠানোর সময় যে নসিহত করে ছিলেন তার ভিতর একটি এরকম যে তুমি যদি কোন সিদ্ধান্ত কোরআন সুন্নাহর ভিতর থেকে বের করতে সক্ষম না হও তখন কি করবা তিনি বলে ছিনে আকল খাটিয়ে অর্থৎ ইজতিহাদের মাধ্যমে সমাধান করবো। উলিল আমর অলিতে গলিতে নির্ধারণ করা হয়না,উলিল আমর নির্ধারিত হয় ইসলামিক স্টেট কায়েমের পর তার আগে যা কিছু হবে সব দলনেতা।

উলিল আমরের পাওয়ার?

উলিল আমর হতে হলে তিনি যে এলাকার উলিল আমর সেই এলাকায় কোরআন সুন্নাহতে বর্ণিত শরীয়া আইন প্রয়োগ করতে হবে। তা না হলে তাকে উলিল আমর বলা যাবেনা। তাহলে কি বলা যাবে? মক্কী জিন্দেগী হতে উদারহন নিতে হবে।ইথোপিয়াতে যখন কিছু মজলুমকে রাসুলুল্লাহ হিজরত করতে পাঠিয়ে ছিলেন তখন কার নেতৃত্বে গিয়েছিলেন? হযরত উসমান ইবনে আফান রাঃ এর নেতৃত্বে। তিনি সহযাত্রীদের উপর ব্যক্তিগত কোন আদেশ দেননি,যতটুকু রাসুল বলেছেন এবং যতটুকু ওহী নাযিল হয়েছে ততটুকু বলেছেন তিনি ছিলেন অনুসরনকারী দলনেতা তিনি তখন উলিল আমর নন। আমাদের জাগতিক দৈনন্দিন জীবনে প্রতিটি মানুষই কারো না কারো অনুসারী হয়। এই অনুসরণের মানদন্ডও আল্লাহ নির্ধারন করে দিয়েছেন। একজন মুসলিম কখনোই চাইলেই যে কারো অনুসরণ এবং আনুগত্য করতে পারে না। বিশেষ করে ধর্মীয় আনুগত্য করতে হলে অবশ্যই কুরআনের নির্দেশ অনুসারেই করতে হবে। আল্লাহ বলেন, “হে ইমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রাসুলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।” (সুরা নিসা ৪:৫৯) আল্লাহ এবং রাসুলের আনুগত্যের পর নির্দেশ মান্য করা যাবে উলিল আমর তথা বিচারক, নেতৃত্বস্থানীয়, পীর, অলি, আউলিয়া, উস্তাদ, শায়খ, শিক্ষক নেতা ইত্যাদি। অর্থাৎ এই দুনিয়ার জীবনে ধর্মীয় এবং জাগতিক যে-কোনো বিষয়ে আল্লাহ এবং রাসুলের পরে এদেরকে অবশ্যই মান্য করা যাবে। তবে তা শর্তযুক্ত। কী সেই শর্ত? সেটা হলো, যদি এইসব উলিল আমরের অন্তর্ভূক্তদের কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দেয় তা আল্লাহ এবং রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দিতে হবে। অর্থাৎ দুনিয়াবী যত আলেম উলামা পীর মাশায়েক শায়খ উস্তাদ রয়েছে, তাদের সিদ্ধান্তকে কুরআন এবং হাদিস দ্বারা যাচাই করতে হবে। সুতরাং দুনিয়াবী যে-কোনো কাউকে কিংবা যে-কোনো দলের অনুসরণ ততক্ষণ পর্যন্ত করা যাবে। যতক্ষণ পর্যন্ত সে কিংবা ঐ দল কুরআন এবং সুন্নাহর মধ্যে থাকবে। কেউ যদি কুরআন এবং সুন্নাহর বিপরীত কোনো সিদ্ধান্ত দেয় বা কুরআন সুন্নাহ বিরোধী ইমান আকিদা পোষণ করে। তাহলে তার এবং তাদের অনুসরণ কখনোই ইসলামে গ্রহণযোগ্য হবেনা। হাদিসে এসেছে “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যদি কোনো বিকলাঙ্গ কুৎসিত গোলামকেও তোমাদের শাসক (নেতা) নিযুক্ত করা হয়। আর সে আল্লাহ তা’আলার কিতাব অনুযায়ী তোমাদেরকে পরিচালিত করে, তাহলে অবশ্যই তোমরা তার কথা শুনবে এবং তার আনুগত্য করবে।” (সহিহ : মুসলিম ১২৯৮, সহিহ আল জামি‘ ১৪১১) একইভাবে তিনি আরও বলেন, “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: প্রত্যেক মুসলিমের (তার শাসনকর্তার নির্দেশ) শোনা এবং আনুগত্য করা অপরিহার্য; তার মন:পূত হোক বা না হোক, যতক্ষণ না তাকে গুনাহের দিকে নির্দেশ করে। কিন্তু যদি তাকে গুনাহের কাজের নির্দেশ দেয়া হয়, তখন তা শোনা ও আনুগত্য করা কর্তব্য নয়।” (বুখারি ৭১৪৪, মুসলিম ১৮৩৯, আবূ দাঊদ ২৬২৬, তিরমিযি ১৭০৭, সহিহ আল জামি‘ ৩৬৯৩, আহমাদ ৬২৭৮) উপর্যুক্ত হাদিসের আলোকে রাসুল (সা.) স্পষ্ট করে নির্দেশ দিয়েছেন যে, যে-কোনো ইসলামি নেতা নেতৃত্ব কিংবা পীর, বুজুর্গ ইত্যাদির আনুগত্য করা যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ তারা কুরআন হাদিসের বিরুদ্ধে না যায়। তারা যদি কুরআন হাদিসের বিরুদ্ধে যায় তাহলে তাদের আনুগত্য ও অনুসরণ করা যাবে না। তাই যাদেরই আনুগত্য আমরা করে থাকি তাদেরকে যাচাই বাছাই করে তবেই আনুগত্য করতে হবে।

ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী ধর্মীয় রাজনৈতিক উত্থানই গড়তে পারে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ

আব্দুল হান্নান,অবঃ সামরিক কর্মকর্তা

ভৌগোলিক বিচারে বাংলাদেশের অবস্থান

দক্ষিণএশিয়ায়, ভারত ও মিয়ানমারের মাঝখানে বাংলাদেশ। এর ভূখণ্ড ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার (বিবিএস ২০২০ অনুসারে) অথবা ১,৪৮,৪৬০ বর্গকিলোমিটার (সিআইএ ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুক ২০২১ অনুসারে) এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। বাংলাদেশের পশ্চিম, উত্তর, আর পূর্ব জুড়ে রয়েছে ভারত। পশ্চিমে রয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য। উত্তরে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয় রাজ্য। পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম। তবে পূর্বে ভারত ছাড়াও মিয়ানমারের (বার্মা) সাথে সীমান্ত রয়েছে। দক্ষিণে রয়েছে বঙ্গোপসাগর। বাংলাদেশের স্থল সীমান্তরেখার দৈর্ঘ্য ৪,২৪৬ কিলোমিটার যার ৯৪ শতাংশ (৯৪%) ভারতের সাথে এবং বাকী ৬ শতাংশ মিয়ানমারের সাথে। বিশ্বের ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে এক অনন্য ও অত্যন্ত কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানে রয়েছে। বঙ্গোপসাগরের প্রবেশদ্বারে অবস্থিত এই বদ্বীপটি একদিকে যেমন বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, অন্যদিকে উদীয়মান অর্থনীতির কারণে বিশ্বশক্তিগুলোর ক্ষমতার ভারসাম্যের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।স্বাধীনতার পর এই গুরুত্বপূর্ণ ভুখন্ডের পরিচালনার দায়িত্ব যারাই গ্রহন করেছে তারাই রাষ্ট্রীয় মযার্দার কথা না ভেবে ব্যক্তিস্বার্থকে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদ পাচার সহ ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার চেষ্টা করেছে।বৃহত্তর লুটেরা গোষ্টী নিজেদের স্বার্থ হাসিল ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে পার্শবর্তী রাষ্ট্রের সন্তুষ্টির জন্য তাদের পরিকল্পনা মাফিক এদেশের জনগণকে তাদের গোলামে পরিনত এবং স্থানীয় তৃনমূল নেতা বানিয়ে তাদের মাধ্যমে জনগণের অধিকার হরণ করে রক্ত চোষার মত চুষে খাচ্ছে, যার কারণে পার্শবর্তী রাষ্ট্রের স্বার্থ এবং গতানুগতিক ধারার উন্নয়ন ব্যতিত মানবতার এবং নৈতিকতার অবক্ষয় বৈ কোন উন্নয়ন হয়নি। দূর অতীত থেকে ইসলামী ভাবধারার কিছু মানুষ বাংলাদেশেরস্বার্থ রক্ষার জন্য কায়েমী স্বার্থবাদীদের যাবতীয় অন্যায়ের প্রতিবাদ করে আসলেও কায়েমী স্বার্থবাদীরা তাদের ভাষা আমলে নেইনি। ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসীরা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে কায়েমী স্বার্থবাদীদের দ্বারা অনেক জুলমের শীকার হয়েছে এমনকি তাদের অসংখ্য নেতাকে গুম, ক্ষুন,জেল জুলুম ফাঁসী পযর্ন্ত দেয়া হয়েছে। ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসীদের সামাজিক নিঃস্বার্থ কাজ বিপদের সময় জনগণের পাশে দাড়ানো দেখে জনগণ তাদের প্রতি আস্থা রেখে তাদের নেতৃত্বে ২৪ শের গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের বৃহত্তম কায়েমী স্বার্থবাদী সৈর ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগকে দেশ ছাড়া করতে বাধ্য করে।২০২৬ শের নির্বাচনে বিজয় লাভ করলেও ডিপস্টেট তাদেরকে মেইনস্ট্রীমে আসতে দেইনি। তাদের সততা যোগ্যতা কুটনৈতিক পারদর্শিকতা প্রমান করে ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী এই ধর্মীয় রাজনৈতিক উত্থানই গড়তে পারে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।

অবৈধ রাষ্ট্রপতির ভাষনকে নাকোচ করে আমিরে জামায়াতের সা থে সংসদ থেকে বেরিয়ে আসলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের আমির সংসদ সদস্য জনাব রুহুল আমিন

জুলাই সনদকে অস্বীকার করা নিজেদের অস্তিত্বকে অস্বীকার করার শামিল- এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি

★ সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিতে বিএনপির প্রতি আহ্বান। সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মজলুম জননেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেন, আপনারা জুলাই সনদে স্বাক্ষর দিয়েছেন কিন্তু শপথ নিতে অনীহা প্রকাশ করে জাতির সঙ্গে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ব্যত্যয় হলে জাতি আপনাদের ক্ষমা করবে না। মনে রাখবেন জুলাই সনদ ২৪ এর জুলাই আন্দোলনের ফসল। আজকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনীহা দেখাচ্ছেন অথচ জুলাই না হলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশে আসতে পারতেন না। আজকে যারা মন্ত্রী হয়েছেন তারা মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পেতেন না। আমরা যারা জাতীয় সংসদ সদস্য হয়েছি এই সুযোগও আমরা পেতাম না। জুলাই সনদকে অস্বীকার করা মানে জুলাই বিপ্লবকে অস্বীকার করা। জুলাইকে অস্বীকার করা নিজেদের অস্তিত্বকে অস্বীকার করার শামিল। তিনি আরও বলেন, জাতির অনেক আশা-আকাঙ্খা। সেই আশা-আকাঙ্খা পূরণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। জুলাই আন্দোলনে হাজার-হাজার ছাত্র-জনতা জীবন দিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত করে এক নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে আমাদেরকে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছে। যারা সরকার গঠন করেছে তারা জনগণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে এবং জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আগামী ১২ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে। দেশ ও জাতির স্বার্থে জামায়াতে ইসলামী সরকারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। কিন্তু সরকার জনগণের বিপক্ষে গেলে জামায়াতে ইসলামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চকবাজার দক্ষিণ থানার উদ্যোগে রাজধানীর বকশিবাজারস্থ কারা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি রোজার গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, আল্লাহ রোজা শুধুমাত্র আমাদের জন্য ফরজ করেননি। বরং রোজা আমাদের পূর্ববর্তী সকল জাতি-গোষ্ঠী ও গোত্রের জন্য রোজা ফরজ ছিল। আল্লাহ নিজে ঘোষণা দিয়েছেন, আশা করা যায় রোজা তোমাদের সফলকাম করবে। এই সফলকাম হতে হবে দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য। রোজা পালনের মাধ্যমে আমাদের পরিবর্তন হতে হবে। নিজের মাঝে যত অন্যায়-অনাচার আছে রোজা পালনের মাধ্যমে সেই সকল অন্যায়-অনাচার থেকে ফিরে আসতে হবে। রোজার শিক্ষায় জীবন গড়তে তিনি উপস্থিত সকলের প্রতি আহ্বান জানান। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শুরা সদস্য ও চকবাজার দক্ষিণ থানা আমীর মাওলানা আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর শিক্ষাবিদ আব্দুস সবুর ফকির এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হাজী হাফেজ এনায়েত উল্লাহ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংসদ ভবনের পশ্চিম ব্লকের ৯ম তলায় বিরোধীদলীয় সভাকক্ষে মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বিরোধীদলীয় সংসদীয় দলের সভা চলছে।

ইন্নানিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

ইন্নানিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। ১০ দিন আগে চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা মফিজুর রহমান আজ ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহদাত বরণ করেন। একই হামলায় ওনার বড় ভাই হাফিজুর রহমান ২৮ ফেব্রুয়ারি শাহদাত বরণ করেন। হে আলাহ অত্যন্ত মেহেরবানী করে তোমার এই বান্দাগুলোকে মাফ করে জান্নাতের মেহমান বানিয়ে দিও আমীন।।

কার্পাসডাঙ্গা কলেজ পরিদর্শনে নব নির্বাচিত এমপি জনাব মোঃ রুহুল আমিন

কার্পাসডাঙ্গা কলেজে শুভেচ্ছা বিনিময়ে মাননীয় চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির চুয়াডাঙ্গা ২ আসনের সংসদ সদস্য জনাব মোঃ রুহুল আমিন, এই ছবিটি ফেসবুকে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছ। সাথে ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা জামায়াতের আমির জনাব মোঃ নায়েব আলী
দর্শনা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড কর্তৃক পরিচালিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়,উক্ত সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চুয়াডাঙ্গা জেলার সম্মানিত আমির জনাব মোঃ রুহুল আমিন প্রধান অতিথি হিসেবে আসন অলংকৃত করেন,সাথে ছিলেন জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান এবং পৌর আমির সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গা অনলাইন সংবাদ

কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির জনাব মোঃ রুহুল আমিন এবং জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান।
দামুড়হুদা উপজেলার সদর ইউনিয়ন কর্তৃক আয়োজিত আজকের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয় উক্ত সভায় জেলা আমির জনাব মোঃ রুহুল আমিন ভাই প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন।

আমানত ও ইয়ানতের খিয়ানত

ভূমিকাঃজীবনের সবটুকু প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য দরূদ ও সালাম মোহাম্মদুর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি। আল্লাহ তাআলার রহমত বর্ষিত হোক, সাহাবায়ে কেরাম আজমাইন এবং উম্মাহাতুল মোমেনীনদের প্রতি। আল্লাহ তাআলা জান্নাতুল ফেরদৌসের আ-লা মাকাম দান করুন। এক্বামতে দ্বীনের পথে শাহাদাত বরণকারী এবং শাহাদাতে তামান্না নিয়ে যারা ইহধাম ত্যাগ করেছেন তাদেরকে। আল্লাহ তাআলার দ্বীন কায়েমের সিপাহ শালাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটা অধ্যায় হচ্ছে ইনফাক ফি সাবিলিল্লাহ সংগ্রহ এবং এর রক্ষণাবেক্ষণ ও জবাবদিহিতার উপর গুরুত্ব আরোপ করেই আমি এই প্রবন্ধটি রচনা করেছি। দ্বীন কায়েমের এবং শপথের কোন কর্মী যদি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই ইক্বামতে দ্বীনের দায়িত্ব পালন করেন তবে তার সামনে যদি ক্ষুদ্র এই পুস্তিকাটি থাকে তবে তাকে সতর্কতার সাথে সামনে অগ্রসর হতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। কোরআনুল কারীমের ভিতর আল্লাহর নিকট শয়তান ওয়াদা করেছেঃ ( ثُمَّ لَاٰتِیَنَّہُمۡ مِّنۡۢ بَیۡنِ اَیۡدِیۡہِمۡ وَ مِنۡ خَلۡفِہِمۡ وَ عَنۡ اَیۡمَانِہِمۡ وَ عَنۡ شَمَآئِلِہِمۡ ؕ وَ لَا تَجِدُ اَکۡثَرَہُمۡ شٰکِرِیۡنَ) আরাফ ১৭ অতঃপর আমি তাদের সম্মুখ দিয়ে পিছন দিয়ে ডান দিক দিয়ে বাম দিক দিয়ে ঘিরে ধরবো। এদের অধিকাংশ কে তুমি শোকর গুজার পাবে না। সুতরাং খুব সহজেই অনুমেয় একামতে দ্বীনের যে সমস্ত দায়ীরা সংগঠনের অর্থের সাথে জড়িত তাদের চতুরদিক হতে শয়তানের আক্রমন আসবে এটাই বাস্তবতা। নানা ধরণের যুক্তি খাড়া করবে, আত্মসাৎ এর পন্থাকে শয়তান হালাল বলে উপস্থাপন করাবে, শয়তান অন্তরের ভেতর আকাঙ্খার,প্রাপ্তিতার,পারিশ্রমিকের চাহিদা বাড়িয়ে তুলবে, এহেন মুহুর্তে একজন ইকামতে দিনের কর্মী যদি এই পুস্তিকাটি পড়ে নিজ জীবনে সতর্কতা অবলম্বন করে এখলাসের সাথে একামতে দ্বীনের দায়িত্ব পালন করতে পারে তবেই হবে আমার এ লেখার সার্থকতা। আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে এখলাসের সাথে, একামতে দ্বীনের দায়িত্ব পালন কালে বায়তুল মালের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিতের তৌফিক দান করুক। আমিন। ২ মূল প্রবন্ধে যাওয়ার পূর্বে আমরা প্রবন্ধটির নামকরণ সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নিলে মূল প্রবন্ধ বুঝতে সহজ হবে।আমরা ৩টি বিষয় প্রথমে জেনে নেব । ১ । আমানতকি?ইসলামের পরিভাষায় কারো কাছে কোনকিছু গচ্ছিত রাখার নাম হচ্ছে আমানত ।প্রথমতঃ এটা আল্লাহর পক্ষ হতে বান্দার প্রতি প্রদত্ত কিছু হুকুম আহকাম,সম্পদ,অঙ্গ প্রত্যঙ্গ, আল আওলাদ,অধিনস্থ দানের আমানত । দ্বিতীয়তঃবান্দা বান্দার নিকট কোন কিছু গচ্ছিত রাখা ।উভয় আমানত সম্পর্কে বান্দাকে আল্লাহর নিকট জবাবদিহি করতে হবে । اِنَّ اللّٰہَ یَاۡمُرُکُمۡ اَنۡ تُؤَدُّوا الۡاَمٰنٰتِ اِلٰۤی اَہۡلِہَا ۙ وَ اِذَا حَکَمۡتُمۡ بَیۡنَ النَّاسِ اَنۡ تَحۡکُمُوۡا بِالۡعَدۡلِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ نِعِمَّا یَعِظُکُمۡ بِہٖ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ سَمِیۡعًۢا بَصِیۡرًا নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করছেন, গচ্ছিত বিষয় ওর অধিকারীকে অর্পণ কর; এবং যখন তোমরা লোকদের মধ্যে বিচার মীমাংসা কর তখন ন্যায় বিচার কর; অবশ্যই আল্লাহ তোমাদেরকে উত্তম উপদেশ দান করছেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ শ্রবণকারী, পরিদর্শক। নিসা ৫৮ এ ব্যাপারে আমরা প্রবন্ধের ভিতর আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ । ২। ইয়ানত কি? এটা বিশেষ দানকে আরবি ভাষায় বলে ই'আনত।আ়ল্লাহর জমিনে আল্লাহর দীন কায়েম এবং সৎ লোকের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহর বান্দারা তাদের কষ্টার্জিত পবিত্র সম্পদের যে একটা অংশ মহব্বতের সাথে কলিজা উজাড় করে দান করে সেটাই ইয়ানত। ৩। খিয়ানতঃ উপরোক্ত দুইটি বিষয় যে জায়গায় যেভাবে ব্যবহার করার কথা সেভাবে ব্যবহৃত না হলে বা না করলে বা অন্য প্রক্রিয়া অবলম্বন করে নিজের মতের ও স্বার্থের অনুকূলে নিলে তাকে বলে খিয়ানত। * দ্বীন প্রতিষ্ঠায় অর্থের ভূমিকা ইকামাতে দ্বীন কায়েমের প্রচেষ্টার সাথে সর্বোচ্চ সহায়ক ভূমিকা পালন করে অর্থ বা মাল। কোরআনুল কারিমে ফি সাবিলিল্লাহ এবং জিহাদ এর সাথে বান্দার দুটি আমলে সলেহ সরাসরি সম্পৃক্ত। প্রথমটি অর্থ বা মালামাল এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে জীবন। ৩ لَا یَسۡتَوِی الۡقٰعِدُوۡنَ مِنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ غَیۡرُ اُولِی الضَّرَرِ وَ الۡمُجٰہِدُوۡنَ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ بِاَمۡوَالِہِمۡ وَ اَنۡفُسِہِمۡ ؕ فَضَّلَ اللّٰہُ الۡمُجٰہِدِیۡنَ بِاَمۡوَالِہِمۡ وَ اَنۡفُسِہِمۡ عَلَی الۡقٰعِدِیۡنَ دَرَجَۃً ؕ وَ کُلًّا وَّعَدَ اللّٰہُ الۡحُسۡنٰی ؕ وَ فَضَّلَ اللّٰہُ الۡمُجٰہِدِیۡنَ عَلَی الۡقٰعِدِیۡنَ اَجۡرًا عَظِیۡمًا প্রয়োজনীয় ওজর ছাড়াই গৃহে বসে থাকা মুসলমান এবং স্বীয় সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে মুজাহীদগন সমান হতে পারেনা। যারা স্বীয় ধনসম্পদ ও প্রান দ্বারা-জিহাদ করে আল্লাহ পদের পদ মর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছেন। গৃহে উপবেশন কারীদের চেয়ে এবং আল্লাহ সকলকেই কল্যানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আল্লাহ মুস্তাহিদীনকে ঘরে উপবেশন কারীদের উপরে মহান প্রতিদানে শ্রেষ্ঠ করেছেন। (নিসা ৯৫) আল্লাহর রাস্তায় ধন সম্পদ জীবন দানের ভিতরেই বান্দার সফলতা। আল্লাহ তায়ালা অন্যত্র বলেন, تُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰہِ وَ رَسُوۡلِہٖ وَ تُجَاہِدُوۡنَ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ بِاَمۡوَالِکُمۡ وَ اَنۡفُسِکُمۡ ؕ ذٰلِکُمۡ خَیۡرٌ لَّکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ তোমরা আল্লাহ এবং রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে ও তোমাদের ধন সম্পদ এবং জীবন দ্বারা আল্লাহর রাস্তার জিহাদ করবে ইহায় তোমাদের জন্য সর্বোত্তম যদি তোমরা বোঝ।-(ছফ-১১) হাদিস শরীফের ভিতর রাসুলুল্লাহ (স) এরশাদ করেন وَعَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «جَاهِدُوا الْمُشْرِكِينَ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ وَأَلْسِنَتِكُمْ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ والدارمي ( আবুদাউদ-নাসাই) হযরত আনাস রাঃ বলেনঃ নবী করিম সাঃ বলেছেন, তোমরা মুশরেকদের বিরুদ্ধে তোমাদের সম্পদ,জীবন ও ভাষা দ্বারা যুদ্ধ করো।-(আবুদাউদ-নাসাই) পাঠক হয়ত ভাবতে পারেন প্রবন্ধের নাম ইয়ানতের খিয়ানত কিন্তু উল্লেখ করা হচ্ছে জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ কথা। ইনফাক ফি-সাবিলিল্লাহর এবং জিহাদ ফি-সাবিলিল্লাহর দুটোই রক্ষণশীল আমলে সলেহ। এ দুটিই আল্লাহ তায়ালার পক্ষ হতে বান্দার কাছে রক্ষাকারী আমানত আর এ আমানত দুটোর মাধ্যমেই আমালে সলেহ পূর্ণতা পায়। এ ব্যপারে সামনে আলোচনা করবো। ৪ লক্ষ্য করুন উপরে দুটি আয়াত এবং একটি হাদিস বর্ণনা করা হয়েছে। কোরআনের আয়াত যেখানেই ফিসাবিলিল্লাহর কথা এসেছে, সেখানেই আগে মালের কথা এসেছে। আগে মালের কথা বলারও অনেক কারণ আছে।দুনিয়ায় সম্পদের মোহ বড়োই কঠিন। নিঃস্বার্থ ভাবে আল্লাহর রাস্তায় মালামাল কোরবানির দ্বারাই প্রমাণিত হবে আল্লাহর রাস্তায় সে জীবন দিতে পারবে কি না। রাসুলুল্লাহ সাঃ এর নিয়ম এটিই ছিল। যখন কোনো অভিযানে বের হতেন তার পূর্বেই সাহাবিদের একত্রিত করতেন এবং ফিসাবিলিল্লাহর পথে কে কি পরিমাণ মালামাল দান করবে তা সংগ্রহ করতেন। আমাদের গঠনতন্ত্রে পরিষ্কার আমাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষের কথা বলা আছে আল্লাহর সন্তুষ্টি। আর কর্মপন্থা বা সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান এবং রাসুলুল্লাহ সাঃ এর পূর্ন আনুগত্য। সুতরাং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আমাদের যাবতীয় কাজকর্ম কোরআন সুন্নাহ মোতাবেক সম্পন্ন করতে হবে। আমরা আল্লাহর রাস্তায় যে মালামাল অর্থকড়ি দান করবো এবং যারা সংগ্রহ করবে উভয়কেই এখলাস ও আমলে সলেহ নীতি অবলম্বন করতে হবে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত সামনে আলোচনা করব। ২ ইসলাম প্রতিষ্ঠায় অর্থে প্রয়োজনীয়তা কেন? সম্মানিত পাঠক আমাদের দু পাঁচজন পরিবার সামলে নিতেই মাসে হাজার হাজার টাকার প্রয়োজন হয়। জৌলুসতা বাদ দিয়ে আমি সাধারণ পরিবারের খরচের কথা বললাম। যেখানে ছোট্ট পরিসরে পরিকল্পনা করা হয়। আর রাষ্ট্রে ইকামতে দ্বীন প্রতিষ্ঠায় অর্থের প্রয়োজন হবেনা এমন ধারনা যথার্থ নয়। আল্লাহ তায়ালার অন্যতম ফরজ হুকুম হলো যাকাত যা দারিদ্র্য বিমোচনের অন্যতম ফরজ খাত। সেখানেও আল্লাহ তায়ালা এক্বামাতে দ্বীন কায়েমের সিপাহ সালাদের কথা উল্লেখ করে বলেছেন ( اِنَّمَا الصَّدَقٰتُ لِلۡفُقَرَآءِ وَ الۡمَسٰکِیۡنِ وَ الۡعٰمِلِیۡنَ عَلَیۡہَا وَ الۡمُؤَلَّفَۃِ قُلُوۡبُہُمۡ وَ فِی الرِّقَابِ وَ الۡغٰرِمِیۡنَ وَ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ وَ ابۡنِ السَّبِیۡلِ ؕ فَرِیۡضَۃً مِّنَ اللّٰہِ ؕ وَ اللّٰہُ عَلِیۡمٌ حَکِیۡمٌ নিশ্চয়ই সাদাকাত (যাকাত) হচ্ছে গরিবদের এবং অভাবগ্রস্থদের এবং যাকাত আদায়কারী নিযুক্ত কর্মচারীদের জন্য, এবং দিনের ব্যাপারে যাদের মন রক্ষা করতে হয়, আর গোলাম আবাদ করার কাজে এবং কার্যকারদের কাজে আর আল্লাহর রাস্তায় সংগ্রাম কারীদের (যুদ্ধ সরঞ্জামের কাজের জন্য) আর মুসাফিরদের সাহায্যে এই হুকুম আল্লাহর পক্ষ থেকে ফরজ আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী প্রজ্ঞাময়। (তওবা-৬০) ৫ সম্মানিত পাঠক বৃন্দ আয়াতে উল্লেখিত সমস্ত খাত সমূহের ভিতর যাকাতের অর্থ যাতে আল্লাহর পথে সংগ্রামকারী এবং সংগ্রাম উপকরণের জন্য ও নির্ধারিত একটা নিসাবের মালিক এবং যাকাত আদায়কারীদের উপর বর্তায়। এক্বামতে দ্বীন কায়েম এবং বিশ্ব মানবতার দুস্থতা দূর করার লক্ষ্যে কোরআন হাদিসে ফি সাবিলিল্লাহর পথে দানের আদেশ, দানের ফজিলত,দানের উদ্বুদ্ধের বর্ণনা করা হয়েছে। যাকাতের আয়াত এবং হাদিস সমূহ আদেশ সূচক তাছাড়াও আল্লাহর পথে দানের আদেশ দিতে গিয়ে আল্লাহ বলেছেনঃ یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اَنۡفِقُوۡا مِمَّا رَزَقۡنٰکُمۡ مِّنۡ قَبۡلِ اَنۡ یَّاۡتِیَ یَوۡمٌ لَّا بَیۡعٌ فِیۡہِ وَ لَا خُلَّۃٌ وَّ لَا شَفَاعَۃٌ ؕ وَ الۡکٰفِرُوۡنَ ہُمُ الظّٰلِمُوۡنَ হে বিশ্বাসীগণ আমি তোমাদের যে জীবন উপকরণ দান করেছি তা হতে সেই দিন সমাগত হওয়ার পূর্বে ব্যয় করো যেদিন ক্রয়,বিক্রয়,বন্ধুত্ব ও সুপারিশ নেই। দানে উদ্বুদ্ধ করতে গিয়ে আল্লাহ বলেন ( مَثَلُ الَّذِیۡنَ یُنۡفِقُوۡنَ اَمۡوَالَہُمۡ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ کَمَثَلِ حَبَّۃٍ اَنۡۢبَتَتۡ سَبۡعَ سَنَابِلَ فِیۡ کُلِّ سُنۡۢبُلَۃٍ مِّائَۃُ حَبَّۃٍ ؕ وَ اللّٰہُ یُضٰعِفُ لِمَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَ اللّٰہُ وَاسِعٌ عَلِیۡمٌ যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন সম্পদ ব্যয় করে তাদের উদাহরণ একটি শস্যবীজ, তা থেকে উৎপন্ন হল সাতটি শীষ,একেক শস্যবীজে উৎপন্ন হল একশোটা শস্যবীজ।আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা আরো বাড়িয়ে দেন। বাকারা-২৬১ পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ তায়ালা আল্লাহর রাস্তায় দান কারীর এখলাস তৈরি প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেনঃ ( اَلَّذِیۡنَ یُنۡفِقُوۡنَ اَمۡوَالَہُمۡ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ ثُمَّ لَا یُتۡبِعُوۡنَ مَاۤ اَنۡفَقُوۡا مَنًّا وَّ لَاۤ اَذًی ۙ لَّہُمۡ اَجۡرُہُمۡ عِنۡدَ رَبِّہِمۡ ۚ وَ لَا خَوۡفٌ عَلَیۡہِمۡ وَ لَا ہُمۡ یَحۡزَنُوۡنَ বাকারা-২৬২ যারা আল্লাহর রাস্তায় নিজের ধন সম্পদ ব্যয় করে এবং ব্যয় করার পর অনুগ্রহের কথা প্রকাশ করে না কষ্ট দেয় না, তাদের জন্য রবের নিকট রয়েছে পুরস্কার। বস্তুুত তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা কোন দুশ্চিন্তা গ্রস্থও হবে না। ৬ এই আয়াতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য আল্লাহ তুলে ধরেছেন,যে রোগ আমাদের কিছু কর্মীর ভিতর পরিলক্ষিত হয়। যেমন আমরা কি ইয়ানত দিইনা,আমাদের মূল্যায়ন কৈ ইত্যাদি নানা ধরনের ধারনা পোষণ করে থাকে । এগুলো থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে । কোরআন হাদিসের সর্ব দিক বিবেচনা করলে বুঝা যায় যে, এক্বামতে দ্বীন কায়েমের জন্য অর্থ সংগ্রহ অপরিহার্য্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরাম আজমাইন (রাঃ) সালফে সালেহীন এক্বামতে দ্বীন কায়েমের অগ্রনায়করা তাই করেছেন। এখন আমি এক নং টীকার ব্যাখ্যা করবো। ইনফাক ফি সাবিলিল্লাহ এবং জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ এ দুটো কেন বান্দর প্রতি আমলে সালেহ এর পূর্ণতা দানকারী রক্ষণশীল আমানত? বিশ্বব্যাপী দাড়ি-টুপি, জুব্বা, পাগড়ী, ইসলামী আন্দোলনকারী দলের অভাব নেই। সুরতের ও কমতি নেই কিন্তু ইসলাম গালীব নেই। দু একটা দেশ উল্লেখিত দুটি আমানত রক্ষা করতে পেরেছে আল্লাহ তাদের বিজয় দান করেছেন। কোরআনের আয়না থেকে আমরা আমলে সালেহ এর পূর্ণতা দানকারী আমানত দুটি নিয়ে আলোচনা করবো। আমলে সালেহ পূর্ণতা না পেলে মোমেনরা সফল হতে পারেবেনা। সুতরাং মোমেনদের দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতার জন্য আমলে সালেহ কে পূর্ণতা দিতে হবে। ( وَعَدَ اللّٰہُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مِنۡکُمۡ وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَیَسۡتَخۡلِفَنَّہُمۡ فِی الۡاَرۡضِ کَمَا اسۡتَخۡلَفَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ ۪ وَ لَیُمَکِّنَنَّ لَہُمۡ دِیۡنَہُمُ الَّذِی ارۡتَضٰی لَہُمۡ وَ لَیُبَدِّلَنَّہُمۡ مِّنۡۢ بَعۡدِ خَوۡفِہِمۡ اَمۡنًا ؕ یَعۡبُدُوۡنَنِیۡ لَا یُشۡرِکُوۡنَ بِیۡ شَیۡئًا ؕ وَ مَنۡ کَفَرَ بَعۡدَ ذٰلِکَ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡفٰسِقُوۡنَ ) সুরা নূর-৫৫ আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তোমাদের মধ্য থেকে যারা ঈমান আনবে এবং আমলে সালেহ (নেক কাজ) করবে তাদেরকে তিনি পৃথিবীতে ঠিক তেমনি ভাবে খেলাফত দান করবেন যেমন তাদের পূর্বে অতিক্রান্ত লোকদের দান করেছিলেন,তাদের জন্য তাদের দ্বীনকে মজবুত ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করে দিবেন যাকে আল্লাহ তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়-ভীতির অবস্থাকে নিরাপত্তায় পরিবর্তিত করে দিবেন। ৭ এই আয়াত পর্যালোচনা করলে আমরা এখানে ঈমান ও আমলে সালেহর পূর্ণতা দানের প্রেক্ষিতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খুঁজে পাই। ১. لَیَسۡتَخۡلِفَنَّهُمۡ فِی الۡاَرۡضِ ):- দুনিয়াতে খেলাফত দান করবেন। আল্লাহর দেয়া এই খেলাফত কি সেটা জানা দরকার, আল্লামা মৌদুদী রহঃ খেলাফতের ব্যাখ্যায় বলেন, আল্লাহ মুসলমানদের খেলাফত দান করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা নিছক আদমশুমারির খাতায়, বা ভোটার লিস্টে বা পরিচয় পত্রে যাদের নাম মুসলমান হিসেবে লেখা আছে তাদের জন্য নয়। এটা এমন মুসলমানের জন্য যারা সাচ্চা ঈমানদার, চরিত্র ও কর্মের দিক দিয়ে সৎ, আল্লাহর পছন্দনীয় দ্বীনের আনুগত্যকারী এবং সব ধরনের শিরক মুক্ত হয়ে নির্ভেজাল আল্লাহর বন্দেগী ও দাসত্যকারী। আল্লামা মওদুদী রাঃ উপরে যে ব্যাখ্যা দিলেন ইসলামী আন্দোলনের নব্বই শতাংশ জনশক্তি এখনো ঐ শর্ত পূরণ করতে সক্ষম হয়নি। কোন না কোনভাবে যে কোন দিকে দুর্বলতা রয়ে গেছে। সে দুর্বলতা সমূহ যতক্ষণ দূর করা না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত খেলাফত প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না ২. ( ۪ وَ لَیُمَكِّنَنَّ لَهُمۡ دِیۡنَهُمُ الَّذِی ارۡتَضٰی لَهُمۡ ) - অর্থাৎ তাদের জন্য তাদের দ্বীনকে মজবুত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করে দিবেন। মজবুত ভিত্তির নির্দেশনা কোরআন সুন্নাহ আমাদের মাঝে আছে,দীন মজবুত ভিত্তির উপর আছে কিন্তু জনশক্তির ঈমানী মজবুতির ঘাটতি আমাদের রয়ে গেছে আমরা অল্পতে বিচলিত হয়ে যায়, কোন বিপদাপদ আসলেই আমরা ভেঙে পড়ি,আল্লাহকে রব বলে মেনে নেয়ার পর হাজার ও জুলুম অত্যাচার নির্যাতন আসলে ও তার উপর অবিচল থাকলে আল্লাহ যে ফেরেশতা পাঠিয়ে সাহায্য করেন সেটি বেমালুম ভুলে গেছি। (   وَ لَیُبَدِّلَنَّهُمۡ مِّنۡۢ بَعۡدِ خَوۡفِهِمۡ اَمۡنًا ) : এবং তাদের ভয়-ভীতির অবস্থানকে আল্লাহ নিরাপত্তায় পরিনত করে দিবেন। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের মন থেকে এখনো জেল,জুলুম হামলা মামলার ভয় যায়নি,এখনো মনে হচ্ছে ভয়ভীতির অবস্থানে রয়েছে না জানি কি হয় ।এই বিষয়টি পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে ইমান আনার পর ইনফাক ফি সাবিলিল্লাহ এবং জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর জন্য যে সাহসীকতার ত্যাগের মানসিকতার ইমানী মজবুতির যে ৮ হকিকত তা এখনো পূরণ হয়নি যার কারনে আমলে সালেহ ও পূরণ হয়নি আর এজন্যই খেলাফতের পূর্ণতার সাধ এখনো আমরা প্রাপ্ত হয়নি। এখন আমি এখলাস ও আমানত নীতির ২ নং টীকার ব্যাখ্যা করবো। একামতে দীন কায়েমের পথে মালামাল অর্থকড়ি দানের ক্ষেত্রে এখলাস বা পরিশুদ্ধতা নীতি ব্যক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এখানে মালের বা অর্থের স্বচ্ছতা -পবিত্রতা ও মোহাব্বতের সাথে দান করার উপর নির্ভর করে দানের হকিকত ও বরকত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি। দান করার ক্ষেত্রে যদি অস্বচ্ছতা বা হারাম পথে অর্জিত কোন সম্পদ, সংকীর্ণতা বা বেশি দান করে কি হবে আমারতো ভবিষ্যৎ চিন্তা আছে সন্তানাদি নিয়ে কি করবো,অনেকের জরিমান প্রদান মনোভাব এ রকম মানসিকতার লোক থাকে তবে ওই দানের পরিণাম সুখকর বঞ্চিত হয় এবং এরকম মানসিকতার কর্মীদের দ্বারা একামতেদীনের পথচলা কষ্টকর। মুয়াত্তায়ে মালিকে বর্ণিত হাদিস নং ১৮৭২ কিতাবুস সাদাকাতে বলা হয়েছে حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي الْحُبَابِ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ رَسُول اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ مِنْ كَسْبٍ طَيِّبٍ وَلَا يَقْبَلُ اللهُ إِلَّا طَيِّبًا كَانَ إِنَّمَا يَضَعُهَا فِي كَفِّ الرَّحْمَنِ يُرَبِّيهَا كَمَا يُرَبِّي أَحَدُكُمْ فَلُوَّهُ أَوْ فَصِيلَهُ حَتَّى تَكُونَ مِثْلَ الْجَبَلِ) -মুয়াত্তামালিক ১৮৭২ সাঈদ ইবনে ইয়াসারি (রাঃ) বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে ব্যক্তি হালাল উপায়ে অর্জিত মাল সদকা করে আল্লাহ তাআলা হালাল পবিত্র কে কবুল করেন। তাহলে উক্ত সদগা সে আল্লাহ তায়ালার হাতে দিল। আল্লাহ পাক তাহাকে এভাবে লালন পালন করেন যেভাবে তোমরা ঘোড়ার বাচ্চা লালন পালন করো। কিংবা উটের বাচ্চা লালন পালন করো, শেষ পর্যন্ত সেই সদগা পাহাড় সমান হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারীমের ভিতর বলেন ( یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اَنۡفِقُوۡا مِنۡ طَیِّبٰتِ مَا کَسَبۡتُمۡ وَ مِمَّاۤ اَخۡرَجۡنَا لَکُمۡ مِّنَ الۡاَرۡضِ ۪ وَ لَا تَیَمَّمُوا الۡخَبِیۡثَ مِنۡہُ تُنۡفِقُوۡنَ وَ لَسۡتُمۡ بِاٰخِذِیۡہِ اِلَّاۤ اَنۡ تُغۡمِضُوۡا فِیۡہِ ؕ وَ اعۡلَمُوۡۤا اَنَّ اللّٰہَ غَنِیٌّ حَمِیۡدٌ ﴿۲۶۷﴾ - বাকারা-২৬৭ ৯ হে মুমিনগণ তোমরা যা উপার্জন করেছো এবং আমি যা তোমাদের জন্য ভূমি হতে উৎপন্ন করেছি তা হতে উৎকৃষ্ট বস্তু খরচ করো এবং তা হতে এমন নিকৃষ্ট বস্তু ব্যয় করতে মনস্থ করো না।যা তোমরা ঘুমন্ত চক্ষু ব্যতীত গ্রহণ করো না এবং তোমরা জেনে রেখো আল্লাহ মহাসম্পদশালী প্রশংসিত। তাহলে হালাল পবিত্র বস্তু দানের ক্ষেত্রে মুমিনের জন্য নসিহত পরিষ্কার। ইসলামী আন্দোলন বা এক্বামতে দ্বীন কায়েমের জন্য যারা অর্থ সংগ্রহ করেন তাদের জন্য নসিহা : আমার লেখনীটা বাস্তবতার আলোকে চলমান পরিবেশের সাথে মিশিয়ে বাস্তবতা তুলে ধরতে চাই। একেবারে ইউনিট পর্যায়ে যারা এক্বামতে দ্বীনেরজন্য অর্থ সংগ্রহ করেন তারা কিন্তু সমাজের প্রতিটা মানুষের জীবন-ধারন পদ্ধতি নীতি-নৈতিকতা, পেশার হালাল-হারাম সবই তারা জানে। তারপরেও তারা ঐ সমস্ত লোকদের কাছ থেকে এয়ানত বা অর্থ সংগ্রহ করে। হালাল কে হারামের সাথে মিশ্রণ কৃত অর্থ মানবতার জন্য বরকত বয়ে আনেনা এইজন্য আল্লাহ নিষেধ করে বলেছেনঃ وَ لَا تَلۡبِسُوا الۡحَقَّ بِالۡبَاطِلِ وَ تَكۡتُمُواالۡحَقَّ وَ اَنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রণ করো না এবং জেনে শুনে মিথ্যা গোপন করো না। বাকারা ৪২ কোরআনের এই আয়াত সর্বযুগের সর্বোকালের হক বাতিলের মিশ্রণ, সত্য মিথ্যার মিশ্রণ, হালাল-হারামের মিশ্রণ ন্যায় অন্যায়ের মিশ্রনের বিরুদ্ধে নাযিল হয়েছে। দ্বীন কায়েমের পথে অর্থকড়ী, সাহায্য, এয়ানত বা বিভিন্ন ফান্ডের জন্য যারা আদায় করে তাদের অধিকাংশ এই আয়াতের হুকুমের বিরুদ্ধে গিয়ে আদায় করে কিনা তা খতিয়ে দেখার অবকাশ আছে।ইসলামী আন্দোলনের কোন কোন দায়িত্বশীল আদায় কারীকে এ ব্যপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।তারা যেন কোন ফ্যাসীজম বিরুদ্ধবাদীদের নিকট হতে অর্থ গ্রহন করে বায়তুল মাইলের পবিত্র আমানতের সাথে মিশ্রন না ঘটায়। বিরুদ্ধবাদীদের নিকট কোন সময় বায়তুল মাইলের জন্য অর্থ নেয়া যাবেঃ যখন ইসলামী ইমারত গঠন হয়ে যাবে, তখন বিরুদ্ধ মতের লোকেরা যদি ইসলামকে গ্রহন করে তবে তারা দারুল ইসলামের জনবলের মতই সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারবে।আর যদি কুফুরী মতবাদের বিশ্বাস নিয়ে থাকতে চাই তবে কোরআন সুন্নাহ ১০ মোতাবেক তাদেরকে ইসলামিক ট্যাক্স দিতে হবে সে ক্ষেত্রে তাদের অর্থ সম্পদ বায়তুল মাইলের সাথে ব্যবহার করা যাবে।আমাদের উদ্দেশ্য যদি হয় আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দীন ও সৎ লোকের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন তাহলে আমাদেরকে এ নীতি অবশ্যই গ্রহন করতে হবে । গাইরে ইসরামীক নীতির মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের ব্যপারে বদর যুদ্ধের পূর্বে নবী জীবনের একটি ঘটনার অবতারণা করতে চাই । হযরত হুযাইফা রাঃ এবং তার পিতা বদর যুদ্ধের সময় দুজনেই মদীনার বাহিরে ছিলেন।বদর যুদ্ধে যেতে তাদের কোন বাঁধা ছিলনা।তারা মক্কার ভিতর দিয়ে মদীনাতে ফিরে আসছিল, পথের মধ্যে আবু জেহেলর দলের সাথে সাক্ষাৎ হয়ে গেলে তারা জিজ্ঞেস করে তোমরা কোথায় যাচ্ছো?তারা বলে আমরা মদীনায় যাচ্ছি।তখন তাদেরকে গ্রেফতার করা হয় এবং বলা হয় তাহলে তোমরা মুহাম্মাদের হয়ে যুদ্ধে অংশ নিবে?তখন তারা কৌশল অবলম্বন করে বলে না আমরা যুদ্ধে অংশ গ্রহন করবোনা ।মক্কার দুশমনেরা তাদেরকে এই অঙ্গীকারের ভিত্তিতে মুক্তি করে দেয় তখন তারা মদীনায় চলে আসে ।মদীনায় তখন বদর যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি পর্বের কাজ চলছিল ।হযরত হুজায়ফা রাঃ মদীনায় ফিরে রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সমস্ত ঘটনা খুলে বললেন এবং বদর যুদ্ধে যাবার জন্য অভিপ্রায় ব্যক্ত করলেন এবং বললেন ইয়া রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমরাতো কাফেরদের সাথে অঙ্গীকার করেছি।আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হক্ব আর অঙ্গীকার পূর্ণ করতেইতো এই যুদ্ধ, যাও তোমাদের যুদ্ধে যেতে হবে না ।সম্মানিত পাঠক ঐ সময় দুজন সৈনিকের কত মূল্য কল্পনা করা যায়? শুধু ওয়াদা রক্ষা করতে তাদেরকে নেয়া হয়নি।সুতরাং ইসলাম প্রতিষ্ঠার পূর্বে বিরুদ্ধবাদীদের নিকট অর্থকড়ি নিয়ে নিজেদের হালাল সম্পদের সাথে মিশ্রনটাও আমানতের খিয়ানত । তবে অধিকাংশ না জানার কারণে করে আর ইসলামে না জানাটাও একটা অপরাধ । দ্বীন কায়েমের অর্থ সংগ্রহ ও হেফাজত আমলের সালেহর পূর্ণতা দানকারী একটি পবিত্র আমানত। আমাকে আপনাকে দ্বীন কায়েমের জন্য অর্থ সংগ্রহের যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, আমরা যদি হালাল-হারাম, ন্যায়-অন্যায় পথে অর্জিত সম্পদের হিসাব না করে গ্রহণ করি তাহলে আমানত রক্ষা হবে না। আমাদের চতুর্পাশে অনেক বিরুদ্ধবাদিরা থাকে যারা লুটপাট, সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি সুদ ঘুষের মাধ্যমে সম্পদ বা অর্থকরী অর্জন করেছে আর আমাদের লোকজন তাদের কাছে গিয়ে অর্থকড়ী যে ১১ কোনো কৌশলে নিয়ে খুব আত্মতৃপ্তি লাভ করে। মনে রাখতে হবে একজন মহরের হালাল পথে অর্জিত ১০ টাকার সাথে হারাম উপায়ে অর্জিত শিল্পপতির লক্ষ টাকার মিশ্রণ যদি হয় তবে দ্বীন কায়েমের পথে এটি হবে আমানতের বড়ই খেয়ানত। হালাল এর সাথে হারামেরই মিশ্রণ আল্লাহ ররহমত থেকে বঞ্চিত করে দেবে। গনিমত এবং ঝাড়কুফের হাদিস এখানে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। এ দুটোর একটাও এখনো আমরা অর্জন করিনি। এয়ানতের সম্পদ খেয়ানত না করা : এয়ানত বড়ই ত্যাগের একটি সম্পদ। এখানে কুলি, মজুর, শ্রমিক, দরিদ্র, ধনী,মধ্যবিত্ত ভিন্ন পেশাদার নারী পুরুষের কষ্টার্জিত সম্পদের একটা অংশ। যাদের প্রত্যেকের মনের আকাঙ্ক্ষা আমার এই ক্ষুদ্র দানের বদৌলতে এই দেশে কোরআন সুন্নাহর মাধ্যমে এক্বামতে দ্বীন প্রতিষ্ঠা হোক। এয়ানত দেবার পর এমনও অনেকে আছে যারা গভীর রাতে জায়নামাজে সিজদাতে রোনাজারী করে তাদের মাবুদের নিকট অন্তরের অন্তরস্থল থেকে বলে ওগো আল্লাহ তুমি আমার যতটুকু ক্ষমতা দিয়েছো, তোমার দ্বীন কায়েমের পথে আমি সর্বোচ্চ দেওয়ার চেষ্টা করেছি তুমি আমার এই টুকুই কবুল করে নাও। এখন আমরা সহজেই অনুধাবন করতে পারি বান্দার পক্ষ হতে আল্লাহর সাথে এই লেনদেনের সম্পর্ক কত গভীর এয়ানতের এই অর্থ যদি ফি সাবিলিল্লাহর পথে ব্যয় না হয়ে মাঝপথে কোন চোর ডাকাত, বা দোকাদারী খোলার হাতে পড়ে তাহলে ইসলামী আন্দোলনের সমগ্র চেতনায়ই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। এয়ানত খেয়ানতের ভয়াবহ পরিণামঃ এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন : یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَخُوۡنُوا اللّٰہَ وَ الرَّسُوۡلَ وَ تَخُوۡنُوۡۤا اَمٰنٰتِکُمۡ وَ اَنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ - আনফাল-২৭ হে মোমেনগণ তোমরা জেনে শুনে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করো না এবং তোমাদের পরস্পরের আমানত সম্পর্কেও বিশ্বাস ভঙ্গ করো না। এয়ানত ছাড়াও পারস্পারিক আরো কিছু বিশ্বাসভঙ্গ হচ্ছে যা আমি ৩ নং টীকায় ব্যক্ত করবো: ( وَ الَّذِیۡنَ هُمۡ لِاَمٰنٰتِهِمۡ وَ عَهۡدِهِمۡ رٰعُوۡنَ ১২ এবং যারা আমানত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে। সুরা মুমেন ৮ আয়াত আমরা কিয়ামতের নিকটবর্তী উম্মত,এই উম্মতের খারাপ মানুষগুলোর উপরেই কিয়ামত কায়েম হবে, কিয়ামতের আগে আমানতের খেয়ানত হবে এটাও সেই খারাপের একটা অংশ। إِذَا ضُيِّعَتِ الْأَمَانَةُ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ قَالَ كَيْفَ إِضَاعَتُهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ إِذَا أُسْنِدَ الْأَمْرُ إِلَى غَيْرِ أَهْلِهِ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ বুখারী যখন আমানতের খেয়ানত হবে তখন কিয়ামত নিকটবর্তী হয়ে গেছে বলে মনে করবে। লোকটি আবার প্রশ্ন করলোঃ কিভাবে আমানতের খেয়ানত করা হবে? নবীজী বললেনঃ যখন অযোগ্য লোকদেরকে দায়িত্ব দেয়া হবে তখন কিয়ামতের অপেক্ষা করতে থাকো । আল্লাহ তাআলা বলেনঃ اِنَّ اللّٰہَ یَاۡمُرُکُمۡ اَنۡ تُؤَدُّوا الۡاَمٰنٰتِ اِلٰۤی اَہۡلِہَا ۙ وَ اِذَا حَکَمۡتُمۡ بَیۡنَ النَّاسِ اَنۡ تَحۡکُمُوۡا بِالۡعَدۡلِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ نِعِمَّا یَعِظُکُمۡ بِہٖ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ سَمِیۡعًۢا بَصِیۡرًا নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করছেন, গচ্ছিত বিষয় ওর অধিকারীকে অর্পণ কর; এবং যখন তোমরা লোকদের মধ্যে বিচার মীমাংসা কর তখন ন্যায় বিচার কর; অবশ্যই আল্লাহ তোমাদেরকে উত্তম উপদেশ দান করছেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ শ্রবণকারী, পরিদর্শক। নিসা-৫৮ (‎حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، حَدَّثَنِي قَيْسٌ، قَالَ حَدَّثَنِي عَدِيُّ بْنُ عُمَيْرَةَ الْكِنْدِيُّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ يَا أَيُّهَا النَّاسُ مَنْ عَمِلَ مِنْكُمْ لَنَا عَلَى عَمَلٍ فَكَتَمَنَا مِنْهُ مِخْيَطًا فَمَا فَوْقَهُ فَهُوَ غُلٌّ يَأْتِي بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‏"‏ ‏.‏ فَقَامَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ أَسْوَدُ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ اقْبَلْ عَنِّي عَمَلَكَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ وَمَا ذَاكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ سَمِعْتُكَ تَقُولُ كَذَا وَكَذَا ‏.‏ قَالَ ‏"‏ وَأَنَا أَقُولُ ذَلِكَ مَنِ اسْتَعْمَلْنَاهُ عَلَى عَمَلٍ فَلْيَأْتِ بِقَلِيلِهِ وَكَثِيرِهِ فَمَا أُوتِيَ مِنْهُ أَخَذَهُ وَمَا نُهِيَ عَنْهُ انْتَهَى ‏"‏ ‏.‏আবু দাউদ ৩৫৮১ ১৩ আদি ইবনে উমারা আল কিন্দি রাঃ থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, হে লোকেরা! তোমাদের মধ্যকার কোন ব্যক্তিকে আমাদের সরকারি কোন পদে নিয়োগ করার পর সে যদি আমাদের তহবিল হতে একটি সুই কিংবা তার অধিক আত্মসাৎ করে তবে সে খেয়ানতকারী। কেয়ামতের দিন সে তার এই খিয়ানতের বোঝা নিয়ে উপস্থিত হবেন। তখন কালো বর্ণের জনৈক আনসার ব্যক্তি উঠে দাঁড়ালো।, বর্ণনাকারী বলেন আমি যেন তাকে দেখছি। সে বলল হে আল্লাহর রাসূল আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব আপনি নিয়ে নিন। তিনি বললেন তুমি কি বললে? সে বলল আমি আপনাকে এরূপ বলতে শুনেছি। তিনি বললেন আমি বলেছি, যাকে আমরা কোন দায়িত্ব দিয়েছি সে কম বেশি যা কিছু আদায় করে আনবে তা জমা দেবে আর তাকে যা কিছু হতে বিরত থাকতে বলা হবে তা থেকে বিরত থাকবে। ( ‎عُبَيْدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ قَالَ اسْتَعْمَلَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً عَلَى صَدَقَاتِ بَنِي سُلَيْمٍ يُدْعَى ابْنَ الْلَّتَبِيَّةِ فَلَمَّا جَاءَ حَاسَبَهُ قَالَ هَذَا مَالُكُمْ وَهَذَا هَدِيَّةٌ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَهَلاَّ جَلَسْتَ فِي بَيْتِ أَبِيكَ وَأُمِّكَ حَتَّى تَأْتِيَكَ هَدِيَّتُكَ إِنْ كُنْتَ صَادِقًا ثُمَّ خَطَبَنَا فَحَمِدَ اللهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ أَمَّا بَعْدُ فَإِنِّي أَسْتَعْمِلُ الرَّجُلَ مِنْكُمْ عَلَى الْعَمَلِ مِمَّا وَلاَّنِي اللهُ فَيَأْتِي فَيَقُولُ هَذَا مَالُكُمْ وَهَذَا هَدِيَّةٌ أُهْدِيَتْ لِي أَفَلاَ جَلَسَ فِي بَيْتِ أَبِيهِ وَأُمِّهِ حَتَّى تَأْتِيَهُ هَدِيَّتُهُ وَاللهِ لاَ يَأْخُذُ أَحَدٌ مِنْكُمْ شَيْئًا بِغَيْرِ حَقِّهِ إِلاَّ لَقِيَ اللهَ يَحْمِلُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَلأَعْرِفَنَّ أَحَدًا مِنْكُمْ لَقِيَ اللهَ يَحْمِلُ بَعِيرًا لَهُ رُغَاءٌ أَوْ بَقَرَةً لَهَا خُوَارٌ أَوْ شَاةً تَيْعَرُ ثُمَّ رَفَعَ يَدَهُ حَتَّى رُئِيَ بَيَاضُ إِبْطِهِ يَقُولُ اللهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ بَصْرَ عَيْنِي وَسَمْعَ أُذُنِي সহিহ বুখারী ৬৯৭৯ আবূ হুমায়দ সা‘ঈদী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লুতাবিয়্যা নামে এক লোককে বণী সুলায়ম গোত্রের যাকাত আদায়কারী নিয়োগ করলেন। যখন যে ফিরে আসল তখন তিনি তার নিকট হিসাব-নিকাশ নিলেন। সে বলল, এগুলো আপনাদের মাল, আর এগুলো (আমাকে দেয়া) হাদিয়া। তখন রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যদি তুমি সত্যবাদী হয়ে থাক তাহলে তোমার মা-বাবার ঘরে বসে থাকলে না কেন? সেখানেই তোমার কাছে হাদিয়া পৌঁছে যেত। এরপর তিনি আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। আল্লাহ্‌র প্রশংসা ও গুণ ১৪ বর্ণনা করার পর তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের কাউকে এমন কোন কাজে নিয়োগ করি, যার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে আল্লাহ্‌ আমাকে মনোনীত করেছেন। কিন্তু সে কাজ করে এসে বলে, এ হল তোমাদের মাল আর এ হলো আমাকে দেয়া হাদিয়া। তাহলে সে কেন তার মা-বাবার ঘরেই বসে থাকল না, সেখানে এমনিতেই তার কাছে হাদিয়া পৌঁছে যেত? আল্লাহ্‌র কসম! তোমরা যে কেউ অন্যায় পন্থায় কোন কিছু গ্রহণ করবে, সে ক্বিয়ামতের দিন তা বয়ে নিয়ে আল্লাহ্‌র সামনে উপস্থিত হবে। আমি তোমাদের কাউকে ভালভাবেই চিনব যে, সে আল্লাহ্‌র কাছে উপস্থিত হবে উট বহন করে; আর উট আওয়াজ দিতে থাকবে। অথবা গাভী বহন করে, আর সেটা ডাকতে থাকবে। অথবা বক্‌রী বহন করে, আর সেটা ডাকতে থাকবে। তারপর তিনি আপন হাত দু’টি এতদূর উত্তোলন করলেন যে তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখা যাচ্ছিল। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ্‌! আমি কি পৌছে দিয়েছি? আমার দু’চোখ সে অবস্থা দেখেছে এবং আমার কান শুনেছে। ( ‎حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ كَانَ عَلَى ثَقَلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ كِرْكِرَةُ فَمَاتَ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم هُوَ فِي النَّارِ فَذَهَبُوْا يَنْظُرُوْنَ إِلَيْهِ فَوَجَدُوْا عَبَاءَةً قَدْ غَلَّهَا قَالَ أَبُوْ عَبْد اللهِ قَالَ ابْنُ سَلَامٍ كَرْكَرَةُ يَعْنِيْ بِفَتْحِ الْكَافِ وَهُوَ مَضْبُوطٌ كَذَا সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩০৭৪ আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাঃ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন আল্লাহর রাসূল (সাঃ) কে পাহারা দেবার জন্য এক ব্যক্তি নিযুক্ত ছিল, তাকে কারকারা নামে ডাকা হতো। সে মারা গেল, আল্লাহর রাসূল সাঃ বললেন সে জাহান্নামী। লোকেরা তাকে দেখতে গেল, আর তারা একটি আবা পেল যা সে আত্মসাৎ করেছিল। কোরআন সুন্নাহর আলোকে এরকম অনেক দলিল পাওয়া যাবে। আমার এ প্রবন্ধের মুখ্য উদ্দেশ্যটা পর্যায় ক্রমে অবতারণার চেষ্টা করছি। আমি এতগুলো কথা কেন লিখলাম তা আপনাদের আবার একটু মনে করিয়ে দেই তা হলো-পূর্বেই সুরা নুরের ৫৫নং আযাতে বর্ণিত ঈমান ও আমলে সালেহ এর কথা বলেছিলাম।যার বিনিময়ে আল্লাহ তার প্রিয় বান্দাদের দুনিয়ায় খেলাফত দান করবেন,পরবর্তীতে কোরআন সুন্নাহর আলোকে আমানত,চুরি,আত্মসাৎ সংক্রান্ত যত দলিল পেশ করলাম তার ১৫ অধিকাংশের সাথে এক্বামাতে দ্বীন কায়েমের অধিকাংশ কর্মী জড়িত। এতগুলো পাপের বোঝা মাথায় নিয়ে দীন কায়েম বোঝা হয়ে দাঁড়াবে । ইয়ানত নামের আমানত কিভাবে খেয়ানত হয়? ইসলামী আন্দোলনের অধিকাংশ কর্মী বস্তুবাদী এবং সিরোমোনিয়াল পাশ্চাত্য সভ্যতা সংস্কৃতি হতে আগত কুনফসের দাসত্বের জিঞ্জির হতে এখনো পর্যন্ত নিজেদেরকে মুক্ত করতে পারেনি।পাশ্চাত্য স্বার্থভোগী অনুসরনীয় নাসের তাড়নায় এখনো সিরাত্বল মুস্তাকিমের পথে উঠতে পারেনি।হতে পারে সংগঠন করতে করতে অনেক প্রাজ্ঞতা অর্জন করেছে কিন্ত খোদায়ী সন্তুষ্টির অনুকূলে এখনো আসতে পারেনি।তাই আসুন আমরা সংগঠনের একেবারে মগডাল হতে কিছু আমানতের খিয়ানত নিয়ে আলোচনা করবো।সাংগঠনিক স্তরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মগডাল হচ্ছে ইউনিট,একজন কর্মী যদি এখানে সংশোধিত হয়ে তাক্বওয়ার পথ অবলম্বন করতে ব্যর্থ হয় তাহলে সে যত উপরেই যাক মনের দুর্বলতা কিন্তু কাটবেনা। ইউনিট সাধারণত ছোট একাংশ কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে । এখানকার দু একজন কর্মী যারাই থাকে তারা ছোট্ট এই এলাকাটাতে মাসিক এয়ামত উঠায়। সেটা হোক পুরুষ ইউনিট আর হোক নারী ইউনিট। এখানে দুটো এখলাস পরিপন্থী অসংগতি পরিলক্ষিত হয় । এক.বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রশিদবিহীন ইয়ানত গ্রহণ। দুই. অসংগত খরচ দেখানো,যেমন নাস্তা,মেহমান আপ্যায়ন যা ইউনিট পর্যায়ে একেবারে নিস্প্রয়োজন। ইউনিটে মেহমান আসলে ওয়ার্ড থেকে আসবে যা একেবারে নিজস্ব এলাকার ভিতর। নারী পুরুষের ইউনিট পর্যায়ে থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত এ দুটি অসংগতি চলে আসছে। রশিদ বিহীন আদায়ের কুফল : যারা দান করে তাদের এখলাছের কোন ঘাটতি থাকে না। তারা বলে আমরা রশিদ কি করব? অনেকে রশিদ নেন না, আর অনেক ক্ষেত্রে রশিদ দেওয়াও হয় না।রশিদ বিহীন টাকাগুলো যখন ইমান দুর্বল কোন দায়িত্বশীল এর হাতে আসে তখন কিন্তু শয়তান তার পিছনে লেগে যায়। কিভাবে তার দ্বারা আমানতের খেয়ানত করানো যায় এবং একটা পর্যায়ে গিয়ে শয়তানের খপ্পরে পড়ে পথ হারিয়ে ফেলে। এটা তুলনামূলক মহিলাদের ক্ষেত্রে বেশি পরিলক্ষিত হয়। শয়তান কিন্তু আল্লাহর সাথে প্রতিজ্ঞা করেছে,যা আমি ভূমিকাতে উল্লেখ করেছি। ثُمَّ لَاٰتِیَنَّہُمۡ مِّنۡۢ بَیۡنِ اَیۡدِیۡہِمۡ وَ مِنۡ خَلۡفِہِمۡ وَ عَنۡ اَیۡمَانِہِمۡ وَ عَنۡ شَمَآئِلِہِمۡ ؕ وَ لَا تَجِدُ اَکۡثَرَہُمۡ شٰکِرِیۡنَ ১৬ অতঃপর আমি তাদের সম্মুখ দিয়ে, পিছন দিয়ে, ডান দিক দিয়ে এবং বাম দিক দিয়ে তাদের কাছে আসব, আপনি তাদের অধিকাংশকেই কৃতজ্ঞ পাবেননা। আরাফ ১৭ আমলে সালেহের পূর্ণতার মাধ্যমেই ইক্বামতে দিন প্রতিষ্ঠিত হবে একনিষ্ঠ কর্মীদের মাধ্যমে। আর ইকামতে দিন কায়েম প্রতিষ্ঠা হয়ে গেলে শয়তানের ভাত মরে যাবে।এজন্য শয়তান চায় এয়ানতের মত আমানত যাতে কর্মীদের মাধ্যমে খেয়ানত হয়। শয়তান এক্ষেত্রে কর্মীকে ইয়ানতের টাকা খরচের হালাল কিছু পন্থা দেখিয়ে ওয়াছ ওয়াছা দেয়। শয়তান মনের ভেতর উদয় করে দেয় যে, তুই সংগঠনের জন্য কাজ করছিস, তুই মুজাহিদ, তোর জন্য খরচ করা বৈধ, তোর জন্য নাস্তা করা বৈধ, তোর জন্য পথ খরচ বৈধ, লোকাল নেতাকর্মীদের আরো বলে তোর পরিবারের জন্য খরচ করাও বৈধ।এইরকম নানা ধরনের খেয়ানতের পরামর্শ শয়তান দিতে থাকে। প্রশ্ন হতে পারে তাহলে ইক্বামতে দ্বীনের কাজ করতে গিয়ে খরচ করা যাবে না? কেন যাবেনা, অবশ্যই যাবে।সেটা কখন? আমাদের গঠনতন্ত্রের স্থায়ী কর্মনীতিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা আছে, কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা কর্ম পন্থা অবলম্বনের সময় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আল্লাহ তায়ালার বিধান এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সিদ্ধান্ত মোতাবে করবেন। সেই আলোকে এখন আসুন ক. যুদ্ধভিযান ছাড়া লোকাল কোন যাতায়াতে নবীজি কি বায়তুল মাল হতে কোন অর্থ নিয়েছেন, সাহাবী রাঃ গণ নিয়েছেন? না নেইনি,তাহলে আমি আপনি যেখানে হেঁটে গেলে চলে, স্বাস্থ্যও ভালো থাকে, সেখানে ১০ টাকা ভ্যান ভাড়া, মোটরসাইকেলের তেল খরচ কেন নেই? কথা আসবে তাহলে তো সংগঠন চলবে না, লোকে কাজ করবেনা। সাহাবায়ে কেরাম কোন স্বার্থে কাজ করতেন, এতগুলো সাহাবী ধন-সম্পদ, আত্মীয় স্বজন ছেড়ে মদিনায় চলে আসলেন, কে দিয়েছিলেন তাদের পথ ভাড়া? ছোট ছোট দাওয়াতি গ্রুপ বের হতো কে দিত তাদের পথ খরচ? হাদীস শরীফে এসেছে মরুভূমির উত্তপ্ত পথে অনেক সময় জুতা ছাড়া হাঁটতে হাঁটতে সাহাবীদের পা ফেটে রক্ত বের হত। স্থানীয় এলাকাগুলোতে নিজের খরচেই যেতে হবে এটাইতো ইনফাক ফি সাবিলিল্লাহ। দূরের পথে গেলে বিলাসবহুল নয় এমন যানবাহন ব্যবহার করতে হবে এবং ন্যূনতম খরচের চেষ্টা করতে হবে। ১৭ খ. যুদ্ধভিযান ছাড়া রসুল সাঃ এবং সাহাবীগণ শান্তিকালীন সময়েঃ রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবা রাঃ জামানায় ব্যক্তিগত হাদিয়ার খাদ্য ছাড়া বাইতুল মাল হতে কোন খরচ করে তারা করেনি। আমরা তো ইউনিট পর্যায়ে কোন বৈঠক হলেই বাইতুল মাল হতে নাস্তার ব্যবস্থা করি। ওয়ার্ড পর্যায়ে নাস্তার ব্যবস্থা করি, ইউনিয়ন পর্যায়ে তো বলার অপেক্ষায়-ই রাখে না। থানা পর্যায়ে আমরা যেসব বৈঠকগুলোতে যোগদান করি তাই আমরা তো বাড়ি থেকে খেয়ে বা নাস্তা করেই যোগদান করি । সুতরাং এখানে সবার জন্য নাস্তার প্রয়োজন হয় নাযিনারা জেলা হতে মেহমান আসেন বা দূরে যাদের বাসা তেনাদের জন্য চা চাক্র করা যেতে পারে,তবে এটা যদি কেউ ব্যক্তগত ভাবে করে তবে সেটা হয় ইসলামের সৌন্দর্য ।তাছাড়া এখানে যে ব্যয়টা হয় এটা যদি দুস্থ মানবতার কাজে ২/৩ জন কে ওই খরচটা দেয়া হতো তাহলে কিন্তু মানবতার সেবা একটু হলেও আরো একধাপ এগিয়ে যেত। আমরা মুখে বলছি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইসলামী আন্দোলন করছি অথচ যে সমস্ত পাবলিক ইকামতে দ্বীন কায়েমের জন্য দান করছে লোকাল পর্যায়ে আমরা নাস্তা আর ভ্যান ভাড়া আর মোটর বাইকের তেল কেনার পথে খরচ করে আমরা নিজেরা সন্তুষ্ট হচ্ছি।আমি ঢালাওভাবে সবার কথা বলছি না। সবাই যদি এরকম হতো তাহলে শহীদি এ কাফেলা এতদূর আসতো না। বাইতুল মালের অর্থ ব্যয় করার ক্ষেত্রে কোরআন সুন্নাহ কে সামনে রাখতে হবে। আমার আপনার মন যা বলবে সেই কাজে ব্যয় করতে হবে এমনটি যদি হয় তাহলে আল্লাহর মহব্বত, রসুলের মহব্বত এবং ফি সাবিলিল্লাহ হতে আমরা দূরে সরে যাব এবং আল্লাহর আজাবের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। আমার কথার কাউন্টার আসতে পারে, তাহলে কি ইয়ানতের টাকা নিয়ে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকবো?কেন বসে থাকবেন? প্রতিটি ইউনিট তাদের এলাকায় যে মাসিক ইয়ানত উঠায় তার চার ভাগের এক ভাগ যদি নিজের এলাকার হতদরিদ্রদের মাঝে সাহায্য করে, এক ভাগ ইউনিটের খরচের জন্য রাখে এবং বাকি দুই ভাগ ঊর্ধ্বতনে পাঠায়। ইউনিট এর খরচ বলতে যোগাযোগের জন্য ন্যূনতম খরচ, বই ক্রয়, সংগঠনের পত্রিকা ক্রয়, এর বাইরে কোন আপ্যায়ন বৈঠকে নাস্তা এগুলোর জন্য খরচ করা যাবে না। তবে হ্যাঁ ইউনিট পর্যায়ে মাঝে মাঝে বড় করে পুরুষ এবং মহিলাদের আলাদা আলাদা বসার ব্যবস্থা করে এলাকার হিতাকাঙ্ক্ষীদের নিকট জরুরী কিছু আদায় করে বিশেষ মেহমান দ্বারা নসিহত মূলক ১৮ দিকনির্দেশনা দিয়ে মুখ মিষ্টি করালে এটাতে ইয়ানতের উপর প্রভাব পড়বে না, দাওয়াতি কাজ ও হয়ে যাবে। তাহলে সংগঠন আরো বেগবান হবে। গ. সিরোমনিয়াল চমকপ্রদ সাজগোজ হতে বেরিয়ে আসা : সম্প্রতি আমরা পাশ্চাত্য ধাঁচের রাজনৈতিক দলগুলোর কৃষ্টি কালচারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশ গতানুগতিক পাশ্চাত্য ধারার লীগ, জাতীয়তাবাদ, রাম- বাম, কোন দলের গঠনতন্ত্রের কিন্তু নেই যে কোন কর্ম পন্থা গহনের সময় আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের বিধানের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করা হবে এবং জাহিলিয়াতী প্রথা রসম রেওয়াজ সবকিছু ছেড়ে কোরআন সুন্নাহ মোতাবেক জীবন যাপন করতে হবে। হ্যাঁ, ইসলামের দাবিও তাই, রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে খেলাফতে রাশেদা ও সলফে সালেহীন সবাই একই পথ অনুসরণ করেছেন কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে বাস্তবতা কি? ইয়ানতের টাকা খরচ করে -চোখ জুড়ানো জৌলুশতা মঞ্চ, প্যান্ডেল, রাজকীয় চেয়ার, রাজকীয় খাদ্য পরিবেশন, এগুলো স্পষ্ট ইয়ানতের আমানতের খেয়ানত। হইত বলতে পারেন যুগের সাথে তাল মিলিয়ে না চললে কেমন হয়,নবীজি যদি এখন আসতেন তাহলে এগুলো করতেন এই ধারনা এবং নীতির কারণেই আজ ইসলামের একনিষ্ঠ দায়ীদের অনেক মাশুল দিতে হচ্ছে। নবীজির ইসলাম প্রতিষ্ঠার পর -বড় বড় সমাবেশ গুলোতে কি করেছেন? আপনি কি বলতে পারবেন নবীজির জামানায় অর্থকরী ছিলনা। নবীজির এমন এমন সাহাবী ছিলেন যাদের অনেক অর্থ সম্পদ ছিল। জৌলুশতা তারাও করতে পারত। বিদায় হজের সেই জাবালে রহমত আমাদের সেই কথা মনে করিয়ে দেয়। কোন মঞ্চ হয়নি, পাহাড়ে পাথরের উপর দাঁড়িয়ে আমার নবী ভাষণ দিয়েছেন। এক লক্ষ ১৪ হাজার সাহাবী মাটিতে বসে শুনেছেন, মেনেছেন। দিকবিদিক দাওয়াত নিয়ে ছড়িয়ে পড়েছেন। বর্তমানে ওয়ার্ড পর্যায়ে যদি কোন সাধারণ সভা হয় তবে তারও জৌলুশতা এবং সাজগোজের বাজেটের কমতি থাকে না। বিরুদ্ধবাদীদেরকে এটা দেখাতে হবে এটা নিহায়েত একটা জাতি বা গ্রুপের অনুসরণ বৈ আর কিছু নয়। এটা দেখে কয়জন মানুষ ইসলামের ছায়াতলে নতুন করে আসবে? একজনও না। অথচ ওই মহল্লায় এমন মানুষ আছে তার হয়তো সে দিনের রিযিক ঘরে নেই, বা অর্থনৈতিক সংকটে আছে বা অসুস্থ একজন রোগী আছে। ওয়ার্ডের এই সাধারণ সভাটাই ইয়ানতের টাকা খরচ না করে, আমরা কোন মসজিদের বারান্দায় বা খোলা ময়দানে বক্তারা একটি তক্তার উপর দাঁড়িয়ে মৌলিক নসিহা গুলো পেশ করতে পারে, এতে সংগঠনের আমানতটা তো অন্য কাজে ব্যয় হতে পারে। তাবুক যুদ্ধের পর ১৯ নবীজি( সঃ) বিভিন্ন জায়গায় বিজয় মহড়া দিয়েছেন, মহড়ারত সেনাদের জন্য গনিমতের মাল হতে খরচ করেছেন। এই সূত্র কে সামনে রেখে আমরা নিয়ম তান্ত্রিকভাবে এখনো কিন্তু বিজয় লাভ করতে পারিনি। মদিনা যতক্ষণ ইসলামিক স্টেট কায়েম না হয়েছে, ইসলামী আইন কানুন এর প্রয়োগ শুরু না হয়েছে মদিনায় মুসলমানদের যতক্ষণ, মদিনায় মুসলমানরা শক্তিশালী ও নিরাপদ না হয়েছে,ততক্ষণ পর্যন্ত কি নবীজি সাঃ সোডাউন মূলক কোন অভিযান করেননি । সম্মানিত পাঠক এবং ইক্বামতের দ্বীনের কর্মীরা আমাদের ইউনিট পর্যায় হতে কেন্দ্র পর্যন্ত এ বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে সংগঠনকে এগিয়ে নিতে হবে। অতিরিক্ত খরচ আর এখলাস বিহীন কাজ করতে গিয়ে আমরা যেন আদালতে আখেরাতে লজ্জিত না হই। এখন আমি ৩ নং টিকার পারস্পরিক বিশ্বাস ও নসিহা ভঙ্গ করা আমানতের খেয়ানত বিষয়ে আলোচনা করব : একটি নিয়ম তান্ত্রিক কোরআন সুন্নাহ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত কোন দলের সদস্য যদি পারস্পরিক বিশ্বাস এবং সাংগঠনিক নসিহত ভঙ্গ করে এবং এর প্রবনতা যদি দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে তাহলে আদর্শবাদী এই ইসলামীক দলটির পতন নিশ্চিত। এখন আমরা এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান জানার জন্য কোরআন হাদিসের আশ্রয় নেব । ( وَ اَوۡفُوۡا بِالۡعَهۡدِ ۚ اِنَّ الۡعَهۡدَ كَانَ مَسۡـُٔوۡلًا বনী ইসরাঈল-৩৪ আয়াত অংশ প্রতিশ্রুতি পালন করো, নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কৈফিয়ৎ তলব করা হবে। فَمَنۡ نَّكَثَ فَاِنَّمَا یَنۡكُثُ عَلٰی نَفۡسِهٖ ۚ وَ مَنۡ اَوۡفٰی بِمَا عٰهَدَ عَلَیۡهُ اللّٰهَ فَسَیُؤۡتِیۡهِ اَجۡرًا عَظِیۡمًا ফাতহ ১০ আয়াতাংশ, যে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে ওটা ভঙ্গ করার পরিণাম তার উপরেই বর্তাবে এবং যে আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার পূর্ণ করে তিনি তাকে মহাপুরুষ্কার দেন। কোরআন হাদিসের আলোকে আমাদের পারস্পরিক বিশ্বাস ও নসিহাটা কিভাবে খেয়ানত হচ্ছে লক্ষ্য করুন। ঊর্ধ্বতন থেকে আমাদের যে নসিহা পেশ করা হয় এ অবশ্যই কুরআন সুন্নাহের আলোকেই পেশ করা হয়। ক. ইয়ানত বা বায়তুল মালের অর্থ খরচ পদ্ধতিঃ ঊর্ধ্বতন থেকে বলা হয় সংগঠনের জন্য কারো নিকট হতে এক টাকা গ্রহণ করলে তা রশিদ প্রদানের মাধ্যমে করবে,এবং ব্যয় করলেও ঊর্ধ্বতনের অনুমতি নিয়ে ব্যয় করতে হবে। ব্যয় করে অনুমতি নেওয়া ইসলামী সংগঠনের নেতৃত্তের সৌন্দর্যের ২০ পরীপন্থী এ কথা মাথায় রেখে ব্যয় করতে হবে এবং সেই ব্যয়টা ভাউচারের মাধ্যমে করতে হবে । এখানে বায়তুল মালের দায়িত্বে যিনি থাকবেন তিনাকে অবশ্যই হযরত আবু উবায়দার নীতি অবলম্বন করতে হবে । হযরত উমর রাঃ এর খেলাফতের সময় একবার ঈদের পূর্বে হযরত উমর রাঃ আবু উবাদার নিকট চিঠি লিখলেন, হে আল্লাহর রাসূলের সাহাবী ঈদে খরচ চালানোর মত আমার সংসারে খরচ নাই । বাচ্চাদের নিয়ে ঈদের খরচের জন্য আমাকে কি অগ্রীম এক মাসের বেতন দেয়া যায়? আমিরুল মোমেনীনের চিঠি পড়ে বুকের সাথে নিয়ে দুচোখ বেয়ে অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছিলেন । আবু উবাদা রাঃ উত্তর লিখলেন হে আমিরুল মোমেনীন আপনি আমাকে দুটি বিষয় লিখিত দিবেন ১। আগামী একমাস আপনি জিবীত থাকবেন এর নিশ্চয়তা প্রদান করে লিখিত দিবেন ২ । আগামী এক বছর জনগণ আপনাকে খেলাফতে রাখবেন এর নিশ্চয়তা প্রদান । আবু উবাদার চিঠি পড়ে হযরত উমর ডুকরে কেঁদে ফেললেন আর বলতে লাগলেন আল্লাহর রাসূল সাঃ এমন সাহাবী তৈরী করে গেছেন যাদের নিকট ইসলামী খেলাফত নিরাপদ,আল্লাহর রহমত যে আমি আবু উবাদার মত একজন বায়তুল মাল রক্ষক পেয়েছি । খ. সদস্য তৈরি করার সময় এখলাসের নীতি অবশ্যই অবলম্বন করতে হবে। এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক আমানত। আমি এটার একটা খোলাসা ব্যাখ্যা করতে চাই। যেমন আমার এলাকায় দুজন ব্যক্তি আছে যারা ইক্বামতে দ্বীন প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী এবং সদস্য হতে চায়। একজন আমার চাইতেও যোগ্য আরেকজন আমার চামচা। ইক্বামতে দ্বীনের স্বার্থে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির কথা চিন্তা করলে আমাকে কোন ব্যক্তি টাকে আগে সদস্য বানানো উচিত? এক্ষেত্রে আমরা অনেকে খামোশ হয়ে যাব এবং সাংগঠনিক আমানত খেয়ানতকারী হব। কারণ একজন যোগ্য ব্যক্তিকে পরিকল্পিতভাবে পিছে রাখা হচ্ছে। শুধু তাই নয় এখানে কোরআনের নির্দেশনাকে স্পষ্ট উপেক্ষা করা হচ্ছে। قُلۡ هَلۡ یَسۡتَوِی الَّذِیۡنَ یَعۡلَمُوۡنَ وَ الَّذِیۡنَ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ؕ اِنَّمَا یَتَذَكَّرُ اُولُوا الۡاَلۡبَابِ যুমার-৯ বল যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান! বিবেকবান লোকেরা কেবল উপদেশ গ্রহণ করে। আমাদের কিছু সংখ্যক লোকাল দায়িত্বশীল আছেন যারা যুগ যুগ ধরে নিজের অবস্থান ধরে রাখার জন্য উক্ত এলাকায় যোগ্য লোক থাকলেও তাদের সদস্য বানাবার জন্য মেহনত করে না। তারা মেহনত করে এমন লোকের পিছনে যে তার কথা শুনবে এবং ২১ নেতা নির্বাচনী ভোটের সময়ে তাকে ভোট দিবে। ইসলামী অগ্রগতির পথে এটা যে কত বড় খেয়ানত তা যদি জানত তাহলে এ পন্থা বেছে নিত না। অনেক ক্ষেত্রে না জানার কারণে কোথাও যদি এমন হয় তবে দ্রুত তওবা করে ফিরে আসতে হবে। গ. নেতা নির্বাচন : ইসলামী ইমারতের কেউ প্রার্থী হবার আশা করলে সে আগেই বাতিল বলে গণ্য হবে এটা ইসলামী শরিয়তের পরিভাষা। আর ইসলামী দলের পরিভাষা ও তাই। নেতৃত্ব চেয়ে নেওয়া যাবে না। হাদিস শরীফের ভেতর আল্লাহর রাসূল বলেন ( ‎حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ قَالَ لِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ سَمُرَةَ لاَ تَسْأَلْ الإِمَارَةَ فَإِنَّكَ إِنْ أُعْطِيتَهَا عَنْ مَسْأَلَةٍ وُكِلْتَ إِلَيْهَا وَإِنْ أُعْطِيتَهَا عَنْ غَيْرِ مَسْأَلَةٍ أُعِنْتَ عَلَيْهَا وَإِذَا حَلَفْتَ عَلَى يَمِينٍ فَرَأَيْتَ غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا فَكَفِّرْ عَنْ يَمِينِكَ وَأْتِ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ. সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৭১৪৬ আব্দুর রহমান ইবনে সামুর রাঃ হাতে বর্ণিত তিনি বলেন নবী-রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন হে আব্দুর রহমান ইবনে সামুরা তুমি নেতৃত্ব চেওনা, কারণ চাওয়ার পর যদি তা তোমাকে দেওয়া হয় তবে তার দায়িত্ব তোমার উপরে বর্তাবে। আর যদি চাওয়া ছাড়াই তোমাকে দেয়া হয় তবে এক্ষেত্রে তোমাকে সাহায্য করা হবে। আর কোন বিষয়ে শপথ করার পর তার বিপরীত দিকটিকে যদি এর চেয়ে কল্যাণ কর মনে কর তাহলে কসমের কাফফারা আদায় করো এবং কল্যাণকর কাজ বাস্তবায়িত কর। ফুটনোট: [১] হাদীসটি এই ইঙ্গিত বহন করে যে, শাসনকার্য চেয়ে নেয়া মাকরূহ। যেমন বুখারীর অন্য রেওয়ায়েতে আছে, إنا لا نولي هذا من سأله ولا من حرص عليه । যার পরিপ্রেক্ষিতে রসূল (সাঃ) শাসনকার্য চেয়ে নেয়ার ভয়াবহতা বর্ণনা করেন যে, যে ব্যক্তিকে তার প্রার্থনার ফলে শাসনকার্য দেয়া হয় তাকে তার উপর সোপর্দ করে দেয়া হয় (অর্থাৎ আল্লাহর তরফ থেকে সে কোন প্রকার সাহায্য পাবে না)। আর যে ব্যক্তিকে বিনা প্রার্থনায় শাসনকার্য দেয়া হয় তাকে আল্লাহর তরফ হতে সাহায্য দেয়া হয়। ইমাম মুহাল্লাব বলেন : এ ব্যাপারে সাহায্যের ব্যাখ্যা বর্ণনা করা হয়েছে। ২২ আমরা হয়তো ঊর্ধ্বতনের নিকট নেতৃত্ব সরাসরি চেয়ে নিচ্ছি না কিন্তু এমন কিছু পন্থা অবলম্বন করছি যা নেতৃত্ব চেয়ে নেয়ারই নামান্তর। যেমন কেউ যদি নারী বা কোন পুরুষকে বলে তার এজেন্ট হিসেবে অন্যান্যদেরকে তাকে সমর্থন দেওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করে তবে সেটা হবে জামানার আমানতের নিকৃষ্টতম খেয়ানত। এই খেয়ানতের কারনে প্রকৃত আমানতদার ব্যক্তি নেতৃত্ব হতে বঞ্চিত হল। যা অযোগ্য ব্যক্তিদের কে নেতৃত্ব বা ইমারতের নেতৃত্ব প্রদান ও আমানতের খেয়ানত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে হাবশী গোলামের আনুগত্যের কথা বলেছিলেন, তিনি আমীর হওয়ার যোগ্য বলেই একথা বলেছেন। তিনি কোরআন সুন্নাহ মোতাবেক অধীনস্থদের পরিচালনা করতে পারবেন বলেই এ কথা বলেছিলেন। যার মূল উরুজ হচ্ছে কোরআন হাদীসে ইসলামী শরীয়তের উপর পারদর্শী একজন ব্যক্তি সে যদি কানকাটা, মাথা কিশমিশের ন্যায় হাবশী গোলামও হয় আর তার চাইতে যোগ্য কোন ব্যক্তি যদি না পাওয়া যায়, তবে তোমরা তারাই আনুগত্য করবে। মূল কথা হচ্ছে ছোট বড় যে কোন ইমারতের নেতা যোগ্য ব্যক্তি হতে হবে এটা শরীয়তের দাবি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন ‎حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِنَانٍ، حَدَّثَنَا فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا هِلاَلُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إِذَا ضُيِّعَتِ الأَمَانَةُ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ ‏"‏‏.‏ قَالَ كَيْفَ إِضَاعَتُهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏"‏ إِذَا أُسْنِدَ الأَمْرُ إِلَى غَيْرِ أَهْلِهِ، فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ ‏"‏‏.‏ সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৬৪৯৬ হযরত আবু হুরায়রা রাঃ হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যখন আমানত নষ্ট হয়ে যাবে তখন কিয়ামতের অপেক্ষা করবে। সে বলল হে আল্লাহর রাসূল আমানত কিভাবে নষ্ট হয়ে যাবে?তিনি বললেন যখন কোন দায়িত্ব অযোগ্য ব্যক্তির উপর ন্যস্ত করা হবে, তখনই কেয়ামতের অপেক্ষা করবে। সম্মানিত ইক্বামতে দ্বীনের কর্মীরা এই হাদিসের উপর আমাদের মেধা-প্রজ্ঞা বুলিয়ে নেবার অবকাশ আছে। আমরা একেবারে ইউনিট থেকে মহানগর পর্যন্ত দেখতে হবে যে, এই হাদিসের ভাষ্যমতে আমানতে কোন খেয়ানত হচ্ছে কিনা। আদর্শবাদী একটি দলের আমানতের খেয়ানতের কারণে কিয়ামতের অপেক্ষা এটা কিন্তু অত্যন্ত ভারবাহী উপদেশ। ২৩ ক্ষুদ্রতর থেকে বৃহত্তর পর্যন্ত ইমারত গঠনে সকল সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে হয় তবে সেটা হবে গতানুগতিক ধারার একটা অংশ। এখানে আমাদের ঐতিহাসিক খোলাফায়ে রাশেদার সূচনা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গভর্নর নির্বাচনের নীতি অপরিহার্য। এখন আসেন বাংলাদেশের আদর্শ বাদী ইসলামের স্থায়ী কর্মনীতিতে স্পষ্ট বলা আছে যে কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন কিংবা কোন কর্ম পন্থা অবলম্বনের সময় আল্লাহ এবং রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিধানের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করবেন। খোলাফায়ে রাশেদার সূচনাতে রাসূলুল্লাহ সাঃ এর ইহধাম ত্যাগে কে হবেন পরবর্তী খলিফা।এক্ষেত্রে যাদের ভোটে হযরত আবু বক্কর রাঃ নির্বাচিত হলেন তারা কোন মাপের সাহাবী? এখানে আরো একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ সেটি হচ্ছে ইমারত গঠনের ক্ষেত্রে মহিলদের(সদস্য) ভোটে অংশগ্রহণ যাএকটু পরে আলোচনাতে আসবো। ইসলামিক আদর্শবাদী দলটি যদি এখলাসমুখী বিজয়ীদল হিসেবে যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে নিতে হয় তাহলে উপরোক্ত বিষয় দুটি নিয়ে পর্যালোচনা অপরিহার্য। যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনে খোলাফায়ে রাশেদা নীতি অবলম্বন :- আমরা সংক্ষিপ্তভাবে মূলনীতিমালাটা কি ছিল জেনে নেই। ১.নেতৃত্বের বিষয়ে পুরুষ সাহাবিদের সিদ্ধান্তঃ আমি ইতিহাস নই রাসূলুল্লাহ সাঃ এর ইহধাম ত্যাগের পর পরবর্তী খলিফা কে হবেন এ নিয়ে বেশ কিছু দাবি আনসার মুহাজিরদের ব্যাখ্যা এবং নবী কন্যা ফাতেমা রা. এর পক্ষ হতে মিরাস সূত্রে খলিফা প্রাপ্তির দাবিও উন্থা্পিত হয়। কিন্তু নবীরা কোন ওয়ারিশ রেখে যান না, এ হাদিসের প্রেক্ষিতে ফাতেমা রা. নিরব হয়ে যান। মদিনা সাকিফায়ে বনি সাদ নামক স্থানে দায়িত্বশীল নাগরিকরা সমবেত হন এবং খলিফা নির্বাচনের জন্য পরামর্শ করেন। এ সমাবেশে খাজরাজ গোত্রের আনসারদের মূল বক্তব্য ছিল সাদ বিন ওবাদার নাম খলিফা পদের জন্য প্রস্তাব করেন। কিন্তু আউস গোত্রের আনসাররা এটা মেনে নিল না। হযরত আবু বক্কর রাঃ বললেন আরবরা কোরাইশ নেতৃত্ব ছাড়া কাউকে মেনে নেয় না।সুতরাং তোমরা ওমর এবং আবু উবায়দা রাঃ দুজনের একজনকে খলিফা নিযুক্ত কর। কারণ সাদ থেকে দুজনেই বেশি যোগ্য। আবু বক্কর রাঃ এর প্রস্তাব শোনার পর আনসাররা প্রতিক্রিয়া লক্ষ করলেন কারণ কোরাইশদের মধ্যে ওমর এবং আবু উবায়দার চেয়ে বেশি যোগ্য হচ্ছে আবু বক্কর (রাঃ)।ওমর (রাঃ) এ প্রস্তাব শুনে আবু বক্কর রাঃ কে বললেন আপনার এ প্রস্তাবে ২৪ সম্মানের সাথে অসম্মতি জানাচ্ছি। আমি মনে করি খলিফা পদের জন্য আপনিই একমাত্র যোগ্য ব্যক্তি কারণ আপনি রসুলের গারসুরের সঙ্গী, হিজরতের সঙ্গী, রাসুলের জীবদ্দশায় আপনি মসজিদে নববীতে ইমামতি করেছেন, আমি আপনার হাতে বায়আত করলাম, তারপর একে একে সবাই বায়আত করলেন। আবু বক্কর রাঃ এর খলিফা নির্বাচনের লক্ষ্যনীয় বিষয়: ★ রাসুলের প্রতি মহব্বত ও আনুগত্য ★জ্ঞানের গভীরতা, প্রজ্ঞতা, দৃঢ়তা,দূরদর্শিতা। ★ইমারত-বিনম্রতা ★সাথীদের নিকট গ্রহণ যোগ্যতা। ছোট বড় যে কোন ইমারতের নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে যারা রসুলের আদর্শ নিজের জীবনে ধারণার ক্ষেত্রে আবু বক্কর, ওমর, ওসমান, আলী, উবায়দা (রাঃ) মত ইসলামের নিকটতম তাদের পরামর্শ অনিবার্য এবং যিনি ইমারতের যে এলাকার আমির হবেন ওই এলাকার মসজিদে ইমামতির যোগ্যতা আছে কিনা তা বিবেচ্য বিষয়। এটা যদি না হয় তবে আমির নির্বাচনে সর্বোচ্চ খেয়ানত হবে। ২. মহিলা সদস্য্যদের ভোটে পুরুষ ইমারত নির্ধারণ : রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর ইহধাম ত্যাগের সময় সাতজন উম্মাহাতুল মোমেনীন রাসুলের স্ত্রী জীবিত ছিলেন। আবু বক্কর (রাঃ) এর খলিফা নির্বাচনে- নবীজির কোনো স্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ করা হয়নি। ওমর (রাঃ) এর খলিফা নির্বাচনের সময়ও আম্মাজানরা জীবিত ছিলেন-তিনাদের পরামর্শ নেয়া হয়নি। সুতরাং ইসলামী ইমারতের আমির নির্বাচনে এই নীতি পরিহার অপরিহার্য। দেশীয় সংবিধানিক যে ভোট তাতে তারা ভোটার হিসাবে অংশ নিবে এটি একটি জিহাদের অংশ কিন্তু নিজেদের ইমারত পুরুষ আমির নির্বাচনে তাদেরকে ভোট দান হতে বিরত রাখা ইসলামিক নীতি। এটা খেলাফতের রাশেদার সুন্নাহ। তবে নারীরা নারীদের নেত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন পদ্ধতি অবলম্বন করবে সেখানে ইসলামের কোন আপত্তি নেই, বরং এটি নবীর জামানাযর মহিলারা করেছেন নবীজি নিষেধ করেননি। এখানে কোন পুরুষ যদি কোন মহিলা সদস্য্যকে প্রভাবিত করে, তার নির্ধারিত মহিলাকে সমর্থনের জন্য ইশারা ইঙ্গিত প্রদান করে তবে সেটা হবে জামানার বড় ধরনের আমানতের খেয়ানত। চামচামী নীতির মাধ্যমে পদ বা মুরুব্বীদের নজরে থাকার চেষ্টা :- ২৫ وَ مِنَ النَّاسِ مَنۡ یُّعۡجِبُکَ قَوۡلُہٗ فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا وَ یُشۡہِدُ اللّٰہَ عَلٰی مَا فِیۡ قَلۡبِہٖ ۙ وَ ہُوَ اَلَدُّ الۡخِصَامِ এবং মানুষের মধ্যে এমনও আছে যার পার্থিব জীবন সংক্রান্ত কথা তোমাকে চমৎকৃত করে, আর সে নিজের (অন্তরস্থ সততা) সম্বন্ধে আল্লাহকে সাক্ষী করে থাকে, কিন্তু বস্তুতঃ সে হচ্ছে কঠোর কলহপরায়ণ ব্যক্তি। বাকারা ২০৪ আনুগত্য ভালোবাসা আর চামচামি এক না,নেতাদের তেলমর্দন, ভুলভাল বোঝানো সেলফি তুলে স্টক পুঁজি নিজেকে অত্যন্ত কর্মঠ কর্মী হিসেবে নেতার নিকট উপস্থাপন ভবিষ্যতে কিছু একটা পাবার আকাঙ্ক্ষায় নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য অন্যের নামে গীবত, অন্যকে অবমূল্যায়ন হিসেবে নেতার নিকট উপস্থাপন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন উম্মতের ব্যাপারে আমার যে বিষয়গুলো ভয় হয় তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাকপটু মোনাফেক। মুসনাতে আহমদ ১/২২ এ কারণে সাহাবায়ে কেরাম এ ধরনের কোন চাটুকারকে মিষ্টি কথায় প্রতারণা করার সুযোগই দিতেন না। বরং কেউ তেলবাজে চাটুকারিতার চেষ্টা করলে তৎক্ষণাৎ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেন। ( ‎حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ، قَالَ قَامَ رَجُلٌ فَأَثْنَى عَلَى أَمِيرٍ مِنَ الأُمَرَاءِ فَجَعَلَ الْمِقْدَادُ يَحْثُو فِي وَجْهِهِ التُّرَابَ وَقَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَحْثُوَ فِي وُجُوهِ الْمَدَّاحِينَ التُّرَابَ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَقَدْ رَوَى زَائِدَةُ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَحَدِيثُ مُجَاهِدٍ عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ أَصَحُّ ‏.‏ وَأَبُو مَعْمَرٍ اسْمُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَخْبَرَةَ وَالْمِقْدَادُ بْنُ الأَسْوَدِ هُوَ الْمِقْدَادُ بْنُ عَمْرٍو الْكِنْدِيُّ وَيُكْنَى أَبَا مَعْبَدٍ وَإِنَّمَا نُسِبَ إِلَى الأَسْوَدِ بْنِ عَبْدِ يَغُوثَ لأَنَّهُ كَانَ قَدْ تَبَنَّاهُ وَهُوَ صَغِيرٌ ‏.‏ ফুটনোট: আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ্। এই হাদীসটি ইয়াযীদ ইবনু আবূ যিয়াদ-মুজাহিদ হতে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে এই সূত্রে যাইদা (রাহঃ) বর্ণনা করেছন। মুজাহিদ-আবূ মা‘মার হতে এই সনদসূত্রটি অনেক বেশি সহীহ্। আবূ মা‘মারের নাম আবদুল্লাহ, পিতা সাখবারাহ। আর মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রাহঃ) হলেন মিকদাদ ইবনু আমর আল ২৬ -কিন্দী, তার উপনাম আবূ মা‘বাদ। আসওয়াদ ইবনু আবদি ইয়াগূস তাকে শৈশব অবস্থায় পালকপুত্ররূপে গ্রহণ করেন বলে তাকে আসওয়াদের সাথে সম্পর্কিত করে মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ বলা হয়। আবু সামার রাঃ থেকে বর্ণিত কোন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে কোন এক প্রশাসকের সামনেই তার প্রশংসা করতে শুরু করে, এতে সিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ রাঃ তার মুখ মন্ডলে ধুলাবালি নিক্ষেপ করতে থাকেন এবং বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন আমরা যেন চাটুকারদের মুখে ধুলাবালি নিক্ষেপ করি। তিরমিজি ২৩৯৩ ইবনে মাজাহ ৩৭৪২ ‎حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ، جُرَيْجٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ عَتِيقٍ، عَنْ طَلْقِ بْنِ حَبِيبٍ، عَنِ الأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ هَلَكَ الْمُتَنَطِّعُونَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَهَا ثَلاَثًا ‏.‏ সহিহ মুসলিম ৬৬৭৭ আব্দুল্লাহ রাঃ হতে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন অতিরিক্ত চাটুকারীরা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে গেছে, তিনি এ কথাটি তিনবার বলেছেন। উপরোক্ত কোরআন এবং হাদিসের আলোকে কেউ যদি চাটুকারীতার মাধ্যমে ইসলামী ইমারতের কিছু গ্রহণ করে তবে ওই ইমারত হবে লানৎ প্রাপ্ত আর যারা ইমারত তৈরিতে সহায়তা করবে তারা করবে খেয়ানত। আর যিনি চাটুকারীদের খপ্পরে পড়ে তাদের কথা শুনবেন এবং সেই মতে কাজ করবেন তিনিও খেয়ানতের অংশীদার হবেন। ★যুদ্ধক্ষেত্র ব্যতীত দারোগা সুলভ মনোভাব পরিহার করা। আল্লাহ বলেন فَبِمَا رَحۡمَۃٍ مِّنَ اللّٰہِ لِنۡتَ لَہُمۡ ۚ وَ لَوۡ کُنۡتَ فَظًّا غَلِیۡظَ الۡقَلۡبِ لَانۡفَضُّوۡا مِنۡ حَوۡلِکَ ۪ فَاعۡفُ عَنۡہُمۡ وَ اسۡتَغۡفِرۡ لَہُمۡ وَ شَاوِرۡہُمۡ فِی الۡاَمۡرِ ۚ فَاِذَا عَزَمۡتَ فَتَوَکَّلۡ عَلَی اللّٰہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ یُحِبُّ الۡمُتَوَکِّلِیۡنَ ইমরান ১৫৯ অতএব আল্লাহর অনুগ্রহ এই যে তুমি তাদের প্রতি কোমল চিত্তঃ এবং তুমি যদি তাদের প্রতি কর্কশভাষী, কঠোর হৃদয় হতে তাহলে নিশ্চয়ই তারা তোমার নিকট ২৭ হতে দূরে সরে যেত। অতএব তুমি তাদের ক্ষমা করো ও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো ও কার্য সম্পর্কে তাদের সাথে পরামর্শ কর । এখানে ইসলামী ইমারতের নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ একটা নির্দেশনা আল্লাহ তুলে ধরেছেন। আমাদের সমাজে ইসলামী নেতৃত্বে যিনারা থাকবেন শত কষ্টের ভিতরেও অধীনস্থদের সহিত কোমল হৃদয় থাকতে হবে। রূঢ়তা পরিহার করতে হবে, এবং প্রতিটা কাজে পরামর্শ করতে হবে। পৃথিবীতে একেক জন একেক বিষয়ে পারদর্শী, যিনারা যে বিষয়ে পারদর্শী ও অভিজ্ঞ তিনাদের নিকট হতে ইসলামী ইমারতের নেতৃত্বকারীকে পরামর্শ নিতে হবে। উক্ত আয়াতে দুনিয়ার সকল সেচ্ছাচারী রূঢ়,কর্কষভাষী লৌহমানবীয় হৃদয়ের নেতৃত্বকে চিরতরে উৎখাত করে রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদর্শের নমুনা আল্লাহ গোটা দুনিয়ার সামনে উপস্থাপন করেছেন । লক্ষণীয় :- আল্লাহতায়ালা নিজেই তো আল্লাহর রাসূলকে পরিচালিত করেন তাহলে আল্লাহ কেন রাসূলুল্লাহ সাঃ কে সাথীদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করতে বললেন। এই সমাজে বিচিত্র মানুষ আছে যারা তাগুতি নেতৃত্ব দেখতে দেখতে অভ্যস্ত।আল্লাহ তাদেরকে যখন ইসলামের নেতৃত্বের আসন দান করেন তখন তারা কুরআনের এই নির্দেশনা ভুলে যায়। এবং নিজে এক ধরনের তাগুতি নেতৃত্বর বহিঃ প্রকাশ ঘটায়।এ সকল কিছু পরিহার করে যদি কোরআনের এই আয়াতের উপর আমল না করা হয় তাহলে আল্লাহর প্রদত্ত এই আমানতকে করা হবে খেয়ানত।এখানে রসূলকে পরামর্শ করতে বলার অর্থ গোটা উম্মতের নেতৃত্বকে পরামর্শের ভিত্তিতে কাজ করতে বলা । একজন নেতা কোন ধরনের লোকদের সাথে পরামর্শ করে কাজ করবেনঃ অন্যান্য গতানুগতিক নেতৃত্ব আর ইসলামী নেতৃত্বের ভিতর বড় পার্থক্য হচ্ছে ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক পরামর্শ, অন্যান্য দলের নেতৃত্বরা যখন সহকর্মীদের নিয়ে কোন পরামর্শ করতে বসে সেখানে মারামারি হয় রক্তাক্ত হয় মানুষ মারা গেছে এমন ইতিহাস ও আছে ।ইসলামী নেতৃত্বের পরামর্শের ক্ষেত্রে এটা পাওয়া যাবে না ।সত্য, সুন্দর ও শৃঙ্খলার ধর্ম ইসলাম। ইসলামে পরামর্শ একটি ইবাদত। পরামর্শ করে কোনো কাজের সিদ্ধান্ত নিলে মানুষের সব কাজ সুন্দর ও শৃঙ্খলাপূর্ণ হয় এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়। তাই ইসলাম পরামর্শের প্রতি জোর দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) সব সময় পরামর্শ করে কাজ করতেন। সাহাবায়ে কেরামকে পরামর্শ করার আদেশ করতেন। একবার হজরত আলী (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জানতে চাইলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমরা যদি এমন কোনো বিষয়ের সম্মুখীন হই, যা কোরআন-হাদিসে নেই, ২৮ তখন কী করব?’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘তখন সবাই মিলে পরামর্শ করে নেবে।এককভাবে কাজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকার পরও রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবায়ে কেরামের সঙ্গে পরামর্শ করে কাজের সিদ্ধান্ত নিতেন। ফলে তাঁর কাজকর্ম সবার কাছে গ্রহণীয় ও বাঞ্ছনীয় হয়ে উঠত। পরামর্শের নিয়ম হলো, অজু করে পরামর্শ করতে বসা। প্রথমেই একজন দায়িত্ববান সিদ্ধান্তদাতা নির্ধারণ করে নেওয়া। ডান দিক থেকে মতামত নেওয়া শুরু করা। পক্ষপাতমুক্ত অভিমত ব্যক্ত করা। দোয়া-দরুদ পড়ে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত দেওয়া ইত্যাদি। পরামর্শ করে কাজ করার ফলে জটিল ও সমস্যাপূর্ণ বিষয়ের সহজ সমাধান হয়; ভুল কম হয়। সবার মেধার মূল্যায়নসহ পরামর্শে আরও অনেক উপকারিতা রয়েছে।তবে পরামর্শটা করতে হবে এলাকা ভিত্তিক নেতৃত্বের সাথে । ইসলামী নেতৃত্বের আর একটা গুন হচ্ছে চেইন অব কমান্ড ঠিক রাখা, যেমন একজন ওয়ার্ড আমির কে ইউনিয়ন আমিরের সহিত তার অধিনস্থদের নিয়ে পরামর্শ করবেন এটাই ইসলামের সৌন্দর্য,পরামর্শ হবে এলাকা ভিত্তিক ।এলাকা ভিত্তিক পরামর্শে যদি কোন সিদ্ধান্তে উপনীত না হওয়া যায় সেক্ষেত্রে পরবর্তী উর্ধতন ধাপের পরামর্শ নিতে হবে ।কোন ওয়ার্ড আমির যদি সরাসরি জেলার সাথে কথা বলে ওয়ার্ড পরিচালনা করে তবে তা হবে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ।একজন জেলা আমির তিনার অধিনস্থ যে কেউ নকল কর়লে তিনিতো সময় থাকলে কথা বলবেনই,তার অর্থ এই নেই যে তিনি ওয়ার্ড পরিচালনার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন ।ইসলাম অংশিদারিত্ব মূলক নেতৃত্ব দ্বারা পরিচালিত এবং একেক নেতৃত্বের একেকটি সীমানা বা পরিধি আছে তবে সবার উৎস কোরআন সুন্নাহ এবং সবার বাইয়াত এক আমিরের প্রতি এবং আনুগত্য সকল উর্ধতন দায়িত্বশীল নেতৃত্বের প্রতি ।এ সিলসিলা যদি ভঙ্গ করে কেউ একক নেতৃত্বের মনোভাব পোষণ করে তবে আদর্শবাদী দল পতনের দিকে ধাবিত হবে । যে কোন ইসলামী নেতৃত্বের জন্য করনীয় কিছু কাজঃ ইউনিট পর্যায়ের নেতৃত্ব থেকে উর্ধতন সকল নেতৃত্বের জন্য আল্লাহর সাহায্য পাবার জন্য করনীয় কিছু কাজ বা আমল আছে যা সকল ইমানদারের জন্যই প্রয়োজন,তবে ইস়লামী নেতৃত্বের জন্য অবশ্য করনীয় ।আমি এখানে ফরজ ওয়াজিব কোন আমলের কথা বলবোনা এবং নেতৃত্বের অন্যান্য গুনাবলীর কথা যা বই পুস্তকে আলোচনা করা হয়েছে তাও বলবোনা কারণ এগুলো ছাড়াতো ইসলামের টিকিটই পাওয়া যাবে না ।আমি অপরিহার্য কিছু বিষয় তুলে ধরবো । ১.ফিকির বা চিন্তা করাঃ ২৯ সারাদিন সাংগঠনিক কাজ,নামাজের সময় হচ্ছে ক্ষেত্রবিশেষ অনেকে দায়সারা নামাজ পড়ে আবার সাংগঠনিক বা ব্যক্তিগত কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি ।সারাদিন পর ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাড়ি ফিরে রিপোর্টটা রেখে বিছানায় চলে যায় ।ঘড়ির কাটার মত এভাবে জীবন চক্র ঘুরতে ঘুরতে চুলদাড়ি সাদা হয়ে যায় এক সময় কবরের ডাক চলে আসে মাইকে এলান হয় অমুক বড় নেতা মারা গেছে ।সহকর্মীরা আমার নেতৃত্বের প্রসংশা করে আমার জানাজাতে বক্তব্য দিবে কিন্তু তারা তো জানেনা আমার জীবনে কোন চিন্তা ফিকিরের আমল ছি়লনা ।কোন বিষয় নিয়ে চিন্তা ফিকির মানুষকে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আল্লাহর সাহায্য হয় । الَّذِیۡنَ یَذۡکُرُوۡنَ اللّٰہَ قِیٰمًا وَّ قُعُوۡدًا وَّ عَلٰی جُنُوۡبِہِمۡ وَ یَتَفَکَّرُوۡنَ فِیۡ خَلۡقِ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ ۚ رَبَّنَا مَا خَلَقۡتَ ہٰذَا بَاطِلًا ۚ سُبۡحٰنَکَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ যারা দন্ডায়মান, উপবেশন ও এলায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃষ্টি বিষয়ে চিন্তা-গবেষনা করে এবং বলেঃ হে আমাদের রাব্ব! আপনি এসব বৃথা সৃষ্টি করেননি; আপনিই পবিত্রতম! অতএব আমাদেরকে জাহান্নাম হতে রক্ষা করুন! ইমরান ১৯১ আয়াত اَوَ لَمۡ یَتَفَکَّرُوۡا فِیۡۤ اَنۡفُسِہِمۡ ۟ مَا خَلَقَ اللّٰہُ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضَ وَ مَا بَیۡنَہُمَاۤ তারা কি নিজেদের অন্তর দিয়ে চিন্তা ফিকির করে দেখেনা রোম ৮ নং আয়াত চিন্তা-গবেষণার যত উপকার : মুসলিম মনীষীরা আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলি এবং তাঁর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা-গবেষণার বেশ কয়েকটি উপকারের কথা উল্লেখ করেছেন। তা হলো—১. ঈমান দৃঢ়তা লাভ করে, ২. আমলের আগ্রহ জন্ম নেয়, ৩. সংশয় দূর হয়, ৪. পাপ ত্যাগ করা সহজ হয়, ৫. অন্তর নরম হয়, ৬. অন্তর্দৃষ্টি খুলে যায়, ৭. আল্লাহর পরিচয় ও ভালোবাসা লাভ করা যায় ইত্যাদি। (ইসলামওয়ে ডটনেট)এই চিন্তা ফিকিরগুলো থেকে ইসলামী নেতৃত্বকে কখনো বিচ্ছিন্ন হওয়া যাবেনা,তার কারণ চিন্তা ফিকিরের যতগুলো উপকারীতা এসছে তার সবগুলো ইসলামী নেতৃত্বের সাথে সম্পৃক্ত । নসিহাঃরাতে উঠে তাহাজ্জুদ আদায় করা এবং সিজদা গুলো বড় করে দেওয়া, আর সিজদাহ্ তে আল্লাহর সাহায্য কামনা করা,তারপর কিছুক্ষন আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে ধ্যানমগ্ন হওয়া । ৩০ চিন্তাভাবনা না করার পরিনামঃ চিন্তা ফিকির না করলে একাগ্রতা আসে না,একনিষ্ঠ একাগ্রতা ছাড়া আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়া যায় না,আল্লাহর নিকটবর্তী না হলে সাধারণ মানুষ আর ইসলামী নেতৃত্বের ভিতর পার্থক্য থাকেনা ।আর তখনই মানুষ সেচ্ছাচার হতে শুরু করে,হিতাহিত সিদ্ধান্ত হারিয়ে ফেলে বস্তুবাদী দলের নেতাদের মত চরিত্রের রূপ ধারণ করে ।আল্লাহ বলেনঃ : وَ لَقَدۡ ذَرَاۡنَا لِجَہَنَّمَ کَثِیۡرًا مِّنَ الۡجِنِّ وَ الۡاِنۡسِ ۫ۖ لَہُمۡ قُلُوۡبٌ لَّا یَفۡقَہُوۡنَ হبِہَا ۫ وَ لَہُمۡ اَعۡیُنٌ لَّا یُبۡصِرُوۡنَ بِہَا ۫ وَ لَہُمۡ اٰذَانٌ لَّا یَسۡمَعُوۡنَ بِہَا ؕ اُولٰٓئِکَ کَالۡاَنۡعَامِ بَلۡ ہُمۡ اَضَلُّ ؕ اُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡغٰفِلُوۡنَ আরাফ ১৭৯ আমি বহু জিন ও মানুষকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি। তাদের হৃদয় রয়েছে, কিন্তু তারা তদ্বারা উপলব্ধি করেনা; তাদের চক্ষু রয়েছে, কিন্তু তারা তদ্বারা দেখেনা। তাদের কর্ণ রয়েছে, কিন্তু তদ্বারা তারা শোনেনা। তারাই হল পশুর ন্যায়, বরং তা অপেক্ষাও অধিক বিভ্রান্ত। তারাই হল গাফিল বা উদাসীন। ২.নিজেকে নগন্য জ্ঞান করাঃ কোন মতে একটা পদ পেলেই মনে হয় আমাদের চোখ উপরে উঠে যায়,ইসলাম এটাকে সমর্থন করে না।ইসলামী পরিভাষায় নিজের ইলম-আমল ধন সম্পদ ইজ্জত সম্মান ইত্যাদি যেকোন বিষয়ে নিজেকে বড় মনে করা এবং সেই সাথে অন্যকে তুচ্ছ ও নগন্য মনে করাই অহংকার। অহংকার সর্বাবস্থায় হারাম। আর অহংকারী ব্যক্তিরাই নিজেকে সবচেয়ে বড় মনে করে। বর্তমানে এই রোগটি সমাজে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষত যারা নিজেকে বেশী শিক্ষিত, বেশী বড় আলেম, বেশী আমলদার, বেশী টাকার মালিক, বেশী ক্ষমতাধর মনে করে তাদের মাঝেই এই রোগটি বেশী পরিলক্ষিত হয়। তারা মানুষের কাছে একটু চাহিদা পেলে বা তারা সামান্য ক্ষমতা পেলে তখন আর তারা জমিন দিয়ে হাটে না বরং তাদের চলাফেরা দেখলে মনে হয় তারা বাতাসে উড়ছেন। এই সকল অহংকারীদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেনঃ وَ لَا تَمۡشِ فِی الۡاَرۡضِ مَرَحًا ۚ اِنَّکَ لَنۡ تَخۡرِقَ الۡاَرۡضَ وَ لَنۡ تَبۡلُغَ الۡجِبَالَ طُوۡلًا ভূপৃষ্ঠে দম্ভ ভরে বিচরণ করনা, তুমিতো কখনই পদভরে ভূ-পৃষ্ঠ বিদীর্ণ করতে পারবেনা এবং উচ্চতায় তুমি কখনই পর্বত সমান হতে পারবেনা।বনী ইসরাইল ৩৭ আয়াত,সুতরাং একজন নেতাকে তাকাব্বরি থেকে দূরে থাকতে হবে।উদ্দেশ্য যদি হয় ৩১ আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যমে ন্যায় ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নিয়তের মাধ্যমে তার জান্নাত লাভ তাহলে অহংকার কেনো? অহংকারীর জন্য জান্নাত হারাম। وَ لَا تُصَعِّرۡ خَدَّکَ لِلنَّاسِ وَ لَا تَمۡشِ فِی الۡاَرۡضِ مَرَحًا ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَا یُحِبُّ کُلَّ مُخۡتَالٍ فَخُوۡرٍ অহংকার বশে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করনা এবং পৃথিবীতে উদ্ধতভাবে বিচরণ করনা। কারণ আল্লাহ কোন উদ্ধত, অহংকারীকে পছন্দ করেননা।সুরা লোকমান ১৮আয়াত ‎حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، ح وَحَدَّثَنَا هَنَّادٌ، - يَعْنِي ابْنَ السَّرِيِّ - عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، - الْمَعْنَى - عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، قَالَ مُوسَى عَنْ سَلْمَانَ الأَغَرِّ، - وَقَالَ هَنَّادٌ عَنِ الأَغَرِّ أَبِي مُسْلِمٍ، - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - قَالَ هَنَّادٌ - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ الْكِبْرِيَاءُ رِدَائِي وَالْعَظَمَةُ إِزَارِي فَمَنْ نَازَعَنِي وَاحِدًا مِنْهُمَا قَذَفْتُهُ فِي النَّارِ ‏"‏ ‏.‏ আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মহান আল্লাহ বলেন, অহংকার হলো আমার চাঁদর এবং মহত্ব হলো আমার লুঙ্গি। যে কেউ এর কোন একটি নিয়ে আমার সাথে ঝগড়া করবে, আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো। সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪০৯০ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ مِنْ كِبْرٍ ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না, । সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪০৯১ ‎حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ يُحْشَرُ الْمُتَكَبِّرُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَمْثَالَ الذَّرِّ فِي صُوَرِ الرِّجَالِ يَغْشَاهُمُ الذُّلُّ مِنْ كُلِّ مَكَانٍ فَيُسَاقُونَ إِلَى سِجْنٍ فِي جَهَنَّمَ يُسَمَّى بُولَسَ تَعْلُوهُمْ نَارُ الأَنْيَارِ يُسْقَوْنَ مِنْ عُصَارَةِ أَهْلِ النَّارِ طِينَةِ الْخَبَالِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ ‏.‏ আমর ইবনু শু'আইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবার ও তার দাদা থেকে বর্ণিতঃ ৩২ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ দাম্ভিক ব্যক্তিদেরকে ক্বিয়ামাত দিবসে ক্ষুদ্র পিপড়ার ন্যায় মানুষের রূপে সমবেত করা হবে। তাদেরকে চারদিক হতে অপমান ও লাঞ্ছনা ছেয়ে ফেলবে। জাহান্নামের ‘বুলাস’ নামক একটি কারাগারের দিকে তাদেরকে টেনে নেয়া হবে, আগুন তাদেরকে গ্রাস করবে, জাহান্নামীদের গলিত রক্ত ও পুঁজ তাদেরকে পান করানো হবে । জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২৪৯২ নিজের মধ্যে অহংকার আছে কি না যাচাই করুন ক. আত্মতুষ্টি ও নিজেকে বড়ভেবে অন্যকে তুচ্ছ ভাবার বদভ্যাস থাকলে বুঝে নেবেন আপনি নিশ্চিত অহংকারী। ঠিক এই দোষেই অভিশপ্ত হয়েছিল ইবলিস।  খ. হক্ককে জানার পরেও কিছু হারানোর ভয়ে মানতে নারাজ। নমরুদ, আবু জাহেল, আবু লাহাব, উতবা, শায়বা, আরও অসংখ্য দাম্ভিক হক্ব প্রত্যাখ্যান করেছিল।  গ. চরাফেরাই রাজভাব প্রকাশ করা। ঘ. পদে পদবীর কারণে অন্যের প্রতি অন্তরে তুচ্ছভাব উদ্রেক হওয়া।  ঙ. অসহায় ও অধীনস্থদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা। চ. দোষ করেও নিজের দোষ অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া। ছ. কাজের ক্ষেত্রে অহংকার প্রদর্শন করা, অহংকার মুক্ত হওয়ার উপায়ঃ ক.এটাভাবা যে আমি নাপাক বীর্য দ্বারা তৈরী খ মৃত্যুর মোরাকাবা করাঃ এটার একটু ব্যক্ষা করা দরকার,যে কোন নিরব নেক সময় নিজেকে সবকিছু থেকে কিছুক্ষনের জন্য একাকী জায় নামাজে বসে চোখ দুটি বন্ধ করে নিজের কপালের দিকে খেয়াল রাখা এবং নিজে মারা গেছেন এ রকম একটা বেদনাদায়ক দৃশ্য নিজের লাশ সামনে নিয়ে আসা,নিজের সন্তানাদি আপন জনেরা নিজ নিজ সম্পর্ক ধরে আপনার লাশের চতুর্দিকে বসে কাঁদছে এরকম খেয়াল নিয়ে আসা,আপনাকে কবরে রাখা পর্যন্ত যত ঘটনা ঘটে সব দৃশ্য গুলো স্বরনে আনা,এই মরনের চিন্তাকে হযরত উমর রাঃ বলতেন প্রকৃত মৃত্যু আসার আগে মরো । গ. আখেরাতের ভয়াবহতার ভয়ে ভীত থাকা । ঘ. ক্বিরামান কাততেবীন আমার আমল লিখেছেন এই ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস করা ঙ.অসহায় প্রতিবন্ধীদের দিকে তাকিয়ে নিজেকে নিয়ে ভাবা । চ.রোগীর পরিচর্যা করা । ৩৩ ছ.সাদামাটা চলাচলের চেষ্টা করা । জ.গোপন আমলে নিজেকে অভ্যস্ত করা । ঝ.গভীর রাতে আল্লাহর ভয়ে গোপনে ক্রন্দন করা, ঞ.মানুষের সাথে নম্র আচরণ করা । ট.আগে সালাম দেবার অভ্যাস করা । ঠ. আল্লাহর কাছে বেশি বেশি তাওবা করা। ৩.অধিনস্থদের কথা যত্নের সাথে শোনা ও তাদের সমস্যা সমাধান করাঃ ইসলামী ইমারতের নেতৃত্বকে তার অধিনস্থদের প্রশ্ন,কথা,আবেগ,আবেদন এগুলো মহব্বতের সাথে শুনতে হবে । এখন ফোনের দুনিয়া, নেতার নিকট অনুসারীরা কখন যোগাযোগ করে? অবশ্যই যখন যেকোন দিক দিয়ে কোন কিছু ভালোমন্দ ঘটে তখন, তাছাড়া সাধারণ মানুষ তেমন একটা যোগাযোগ করেনা । তবে যোগাযোগের সময় এবং পরিবেশ পরিস্থিতির কথাটাও অনুসারীদের ভাবতে হবে ।বিশ্রামের বা জরুরী মিটিং সমাবেশে অবস্থান ইত্যাদির কথা মাথায় রেখে যোগাযোগ করা উত্তম ।তবে অনুসারীর কথা শেষ না হলে তাকে নিরাশ করে নেতা কথা বন্ধ করা অনুচিত । ‎حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ، حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، أَنَّ الْقَاسِمَ بْنَ مُخَيْمِرَةَ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا مَرْيَمَ الأَزْدِيَّ أَخْبَرَهُ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى مُعَاوِيَةَ فَقَالَ مَا أَنْعَمَنَا بِكَ أَبَا فُلاَنٍ ‏.‏ وَهِيَ كَلِمَةٌ تَقُولُهَا الْعَرَبُ فَقُلْتُ حَدِيثًا سَمِعْتُهُ أُخْبِرُكَ بِهِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ مَنْ وَلاَّهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ شَيْئًا مِنْ أَمْرِ الْمُسْلِمِينَ فَاحْتَجَبَ دُونَ حَاجَتِهِمْ وَخَلَّتِهِمْ وَفَقْرِهِمُ احْتَجَبَ اللَّهُ عَنْهُ دُونَ حَاجَتِهِ وَخَلَّتِهِ وَفَقْرِهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَجَعَلَ رَجُلاً عَلَى حَوَائِجِ النَّاسِ ‏.‏ আবু মারইয়াম আল-আযদী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ আমি মু’আবিয়াহ (রাঃ) এর নিকট গেলে তিনি বলেন, হে অমুক, আমার নিকট তোমার আগমন সুস্বাগতম! এটা আরবদের বাকরীতি। আমি বললাম, আমি একটি হাদীস শুনেছি যা আপনাকে জানাবো। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ মহান আল্লাহ কোন ব্যক্তিকে মুসলিমদের কোন দায়িত্বে নিয়োগ করলে যদি সে তাদের প্রয়োজন পূরণ ও অভাবের সময় দূরে আড়ালে থাকে ৩৪ তখন মহান আল্লাহও তার প্রয়োজন পূরণ ও অভাব-অনটন দূর করা হতে দূরে থাকবেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর মু’আবিয়াহ (রাঃ) জনসাধারণের প্রয়োজন পূরণের জন্য এক ব্যক্তিকে নিয়োগ দিলেন। সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৯৪৮ ‎حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ كُلُّكُمْ رَاعٍ فَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، فَالأَمِيرُ الَّذِي عَلَى النَّاسِ رَاعٍ وَهْوَ مَسْئُولٌ عَنْهُمْ، وَالرَّجُلُ رَاعٍ عَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ وَهْوَ مَسْئُولٌ عَنْهُمْ، وَالْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ عَلَى بَيْتِ بَعْلِهَا وَوَلَدِهِ وَهْىَ مَسْئُولَةٌ عَنْهُمْ، وَالْعَبْدُ رَاعٍ عَلَى مَالِ سَيِّدِهِ وَهْوَ مَسْئُولٌ عَنْهُ، أَلاَ فَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ ‏"‏‏.‏ ‘আবদুল্লাহ [ইবনু ‘উমর (রাঃ)] থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। কাজেই প্রত্যেকেই নিজ অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসার সম্মুখীন হবে। যেমন- জনগণের শাসক তাদের দায়িত্বশীল, কাজেই সে তাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। একজন পুরুষ তার পরিবার পরিজনদের দায়িত্বশীল, কাজেই সে তাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী স্বামীর ঘরের এবং তার সন্তানের দায়িত্বশীল, কাজেই সে তাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। আর ক্রীতদাস আপন মনিবের সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণকারী। কাজেই সে বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। শোন! তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। কাজেই প্রত্যেকেই আপন অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২৫৫৪ ‎أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا أَبُو الأَشْهَبِ عَنْ الْحَسَنِ أَنَّ عُبَيْدَ اللهِ بْنَ زِيَادٍ عَادَ مَعْقِلَ بْنَ يَسَارٍ فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ فَقَالَ لَهُ مَعْقِلٌ إِنِّي مُحَدِّثُكَ حَدِيثًا سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ مَا مِنْ عَبْدٍ اسْتَرْعَاهُ اللهُ رَعِيَّةً فَلَمْ يَحُطْهَا بِنَصِيحَةٍ إِلاَّ لَمْ يَجِدْ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ. হাসান বাস্‌রী (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ যে, ‘উবাইদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু যিয়াদ (রহঃ) মাকিল ইব্‌নু ইয়াসারের মৃত্যুশয্যায় তাকে দেখতে গেলেন। তখন মাকিল (রাঃ) তাকে বললেন, আমি তোমাকে এমন একটি ৩৫ হাদিস বর্ণনা করছি যা আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে শুনেছি। আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে শুনেছি যে, কোন বান্দাকে যদি আল্লাহ্‌ জনগণের নেতৃত্ব প্রদান করেন,আর সে কল্যাণ কামনার সঙ্গে তাদের তত্ত্বাবধান না করে, তাহলে সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবেনা। নোট: নেতাদের জন্য জনগণের তত্ত্বাবধান করা ইসলামে একটি ফরয কাজ বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৭১৫০

<marquee>দারসুল কোরআন</marquee>

1 দারসুল কোরআন সুরা নূর ২৭-২৭ নং আয়াত মোট আয়াত সংখ্যাঃ ৬৪ মোট রুকুর সংখ্যাঃ ০৯ পারা নংঃ১৮ কত মঞ্জিলেঃ ৪র্থ তারতিব বিন নুযুলঃ ওহীর ধারা...